টুর্নামেন্টের নবাগত দলটির বিপক্ষে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়টি এসেছে ৩-২ গোলের চরম নাটকীয়তায়।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে। এই দলটি (কেপ ভার্দে) গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলের বিপক্ষে অপরাজিত ছিল।
ভেবেছিলাম এরপর আমরা আমাদের চেনা ছন্দ খুঁজে পাব এবং কিছুটা স্বস্তিতে খেলব; কিন্তু হয়েছে ঠিক তার উল্টো।
বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলই যে ছোট নয় এবং নকআউট পর্বের কোনো ম্যাচই সহজ নয় ফুটবলের এই চিরন্তন সত্যটিই যেন আজ হারে হারে টের পেল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নকআউট পর্বের তীব্র প্রতিযোগিতা নিয়ে মেসি আরও যোগ করেন, ‘নকআউটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে কোনো সুযোগ উপহার দেয় না। আমরা সবসময় সব প্রতিপক্ষকে সম্মান করি। এখন বিশ্বফুটবলে দলগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্য অনেক বেশি, তাই প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্রাম নেওয়া এবং সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবা। এই ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিতে হবে। আমরা অনেক ভালো কিছু করেছি, তবে কিছু ভুলও শুধরে নিতে হবে।’
নিজেদের মাঠের দুর্বলতা ও ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি নিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেন, ‘আমরা ঠিকঠাক প্রেসিং (প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা) করতে পারছিলাম না। আমাদের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের লাইনের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি ছিল, যার কারণে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। তাছাড়া ওরা যেভাবে শারীরিক শক্তি দিয়ে খেলছিল, আমরা শুরুতে তার সঙ্গে ঠিকঠাক তাল মেলাতে পারছিলাম না।’
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এই ম্যাচটি ছিল পরতে পরতে রোমাঞ্চে ঠাসা। মেসির গোলে আর্জেন্টিনা প্রথমে এগিয়ে গেলেও কেপ ভার্দের দিরয় দুয়ার্তে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর লিসান্দ্রো মার্তিনেস আবারও আলবিসেলেস্তেদের লিড এনে দেন। কিন্তু দমে না গিয়ে কেপ ভার্দের কাবরাল এক দৃষ্টিনন্দন গোলে ম্যাচটিকে ২-২ সমতায় নামিয়ে আনেন। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ডিনে বোর্জেসের একটি আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিশ্চিত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
সেট-পিস থেকে পাওয়া গোলের গুরুত্ব উল্লেখ করে মেসি কেপ ভার্দেকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই দলটি এমন এক দল যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে জানে। আজ সেট-পিস (ফ্রিকিক/কর্নার) থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ গোল পেয়েছি, যা এর আগে এই টুর্নামেন্টে হয়নি। আমাদের দলে ভালো হেডার আছে এবং আজ আমরা সেটার সঠিক সুবিধা নিতে পেরেছি। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে সুযোগের সঠিক ব্যবহার ও গোল করাটা সবচেয়ে জরুরি।’
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরকে মোকাবিলা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। যারা এই রাতেই পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে (১)৪-২(১) ব্যবধানে। আগামী মঙ্গলবার রাতে মিশরের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল।