জানা নিউজ

কিউবার উদ্দেশে পাঠানো বিপুল জ্বালানি জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

কিউবার উদ্দেশে পাঠানো প্রায় ৩০ লাখ ডলার মূল্যের ৯০টি জ্বালানি চালান জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব চালানে ছয় লাখ গ্যালনের বেশি জ্বালানি ছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে কিউবার পথে জ্বালানি আটকের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিউবার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের নীতির আওতায় কিউবার বেসরকারি খাতে তুলনামূলক ছোট পরিমাণে জ্বালানি পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য কিউবার সরকারি ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মিয়ামি কার্যালয়ের বিশেষ এজেন্ট ইনচার্জ হোসে ফিগুয়েরো বুধবার সাংবাদিকদের জানান, জব্দ করা জ্বালানির চালানগুলো হাভানাভিত্তিক রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনেটেকের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার আগেই হিউস্টন ও দক্ষিণ ফ্লোরিডার পোর্ট এভারগ্লেডসে চালানগুলো আটকে দেওয়া হয়। জব্দ করা জ্বালানির পরিমাণ ছয় লাখ গ্যালনের বেশি। ফিগুয়েরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার মতো বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে না। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিউবার সরকারের সুবিধা হতে পারে, এমন সন্দেহে এসব চালান আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন, সহায়তা বা সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। জ্বালানি জব্দের বিষয়ে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে জাতিসংঘ ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে কমিউনিস্ট শাসিত কিউবা একে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানির সংকট ও মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেশটি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, কিউবার ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য দেশটির সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড জানায়, সেপ্টেম্বরে কিউবার উদ্দেশে জ্বালানি নিয়ে যাওয়া একটি বড় কনটেইনার জাহাজ আটক করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যালাস্ট ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিল। সূত্র: রয়টার্স