সহ আয়োজক কানাডা ম্যাচজুড়ে দারুণ লড়াই করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। সেই সুযোগেরই পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে মরক্কো। আজেদিন উনাহির জোড়া গোল ও বদলি নেমে সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের গোলে কানাডাকে ৩,০ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আফ্রিকার দলটি।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডাই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। ম্যাচের শুরুতেই একাধিকবার মরক্কোর রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। ১১তম মিনিটে তানি ওলুওয়াশেয়ির শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধজুড়ে কানাডা সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি।
উল্টো প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় মরক্কো। ২২তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় টানা তিন ম্যাচে গোল করা ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে। তবে বিরতির পর একেবারেই বদলে যায় আফ্রিকার দলটির খেলার চেহারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মরক্কো। ৫০তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন আজেদিন উনাহি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কানাডা। ৭৯তম মিনিটে টেজন বুকানানের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন বুনু। কানাডা যখন আক্রমণে ব্যস্ত, তখন পাল্টা আক্রমণ থেকে আরও একবার আঘাত হানে মরক্কো। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি।
যোগ করা সময়েও থামেনি মরক্কো। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে আবারও ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি। তাতেই নিশ্চিত হয় ৩,০ গোলের জয়।
স্কোরলাইন একপেশে হলেও ম্যাচের চিত্র ছিল ভিন্ন। বলের দখলে পিছিয়ে থেকেও কানাডা গোলের জন্য ১০টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মরক্কো মাত্র পাঁচটি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। এর মধ্যে তিনটিই জালে জড়ায়। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই দুই দলের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল মরক্কো। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল।