মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদহারের দিকে নজর থাকায় বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। এর আগে গত শুক্রবার সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল মূল্যবান এই ধাতুটির দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে যায়। এতে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২২.২৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৮১.৬০ ডলারে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম ১৭ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। জুলাইয়ে মার্কিন অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে কর্মসংস্থান হারিয়েছে। পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও বড় ধরনের সংশোধন করে কমানো হয়েছে। এতে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশাও বদলে গেছে। ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের ফেড বৈঠকে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সাধারণত সুদহার কমার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদহার কমলে সুদ-আয়কারী সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয়ও কমে যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তেহরান বলেছে, কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এদিকে গতকাল সোমবার স্পট রুপার দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩.৪৫ ডলার, প্লাটিনাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪২.৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬২.৯৭ ডলারে নেমেছে।