হলিউডে আরও বড় হলো একীভবনের লড়াই। এক বছরের বেশি সময়ের দর-কষাকষি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব ও আইনি জটিলতার পর অবশেষে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। গত মঙ্গলবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই ঐতিহ্যবাহী স্টুডিও এখন একই মালিকানার অধীনে। নতুন প্রতিষ্ঠানটি ‘স্কাইড্যান্স’ নামেই পরিচালিত হবে। চুক্তির মোট এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু প্রায় ১১১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির ইক্যুইটি মূল্য প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। প্যারামাউন্ট প্রতি শেয়ারে ৩১ ডলার নগদ পরিশোধ করেছে। নতুন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে থাকছেন ডেভিড এলিসন। সহ-সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ম্যাটেলের সাবেক প্রধান নির্বাহী ইয়ানন ক্রেইজ। এই একীভবনের ফলে ‘হ্যারি পটার’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’, ‘ডিসি’, ‘মিশন: ইম্পসিবল’, ‘টপ গান’, ‘দ্য গডফাদার’ ও ‘স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টস’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি একই করপোরেট ছাতার নিচে এসেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের মিলিত চলচ্চিত্র লাইব্রেরিতে থাকছে ১৫ হাজারের বেশি সিনেমা। পাশাপাশি এইচবিও, সিবিএস, সিএনএন, নিকেলোডিয়ন, শোটাইম, প্যারামাউন্ট+, এইচবিও ম্যাক্সসহ একাধিক টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মও এখন একই প্রতিষ্ঠানের অংশ। ওয়ার্নারকে ঘিরে শুরুতে প্যারামাউন্ট ও নেটফ্লিক্সের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩১ ডলারের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে যায় প্যারামাউন্ট। এরপর অ্যান্টিট্রাস্ট আইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্য এবং রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা চুক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, একীভবনের ফলে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, স্ট্রিমিং ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। সেপ্টেম্বরে সমঝোতা ও আদালতের অনুমোদনের পর সেই জটিলতা কাটে। তবে অধিগ্রহণের সঙ্গে বেশ কিছু শর্তও রয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠানকে প্রথম দুই বছরে বছরে অন্তত ৩০টি এবং পরবর্তী তিন বছরে ৩২টি সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে হবে। প্রতিটি সিনেমার জন্য অন্তত ৪৫ দিনের প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে বছরে অতিরিক্ত অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও সিএনএন ও সিবিএস নিউজের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা রক্ষায় আলাদা নজরদারি কাঠামো থাকবে। সব মিলিয়ে হলিউডের এই বড় একীভবনের পর স্ট্রিমিং, সিনেমা হল ও কনটেন্ট বাজারে প্রতিযোগিতার চেহারা কতটা বদলায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।