প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ১৬ বছর পর আবারও শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে ২,০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখে দাপুটে জয় তুলে নেয় লা রোজা।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল ও পেদ্রো পোরো। এই জয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্পেন। নবম মিনিটেই দানি ওলমোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের আদ্রিয়েন রাবিও। এরপর ২১তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের ভেতরে লুকাস দিঁনের চ্যালেঞ্জে পড়ে যান লামিনে ইয়ামাল। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে ২৩তম মিনিটে স্পট কিক থেকে জোরালো শটে গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল।
গোল হজমের পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। ৩১তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দলের অন্যতম ভরসা উইলিয়াম সালিবা, যা ফরাসিদের রক্ষণকে আরও দুর্বল করে দেয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে এমবাপ্পে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেলেও স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত বেরিয়ে এসে দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন। ফলে ১,০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি স্প্যানিশরা। ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ ওয়ান টু পাস খেলে বক্সে ঢ়ুকে মাইক মেইনিয়াঁকে পরাস্ত করেন ডান ব্যাক পেদ্রো পোরো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক পরিবর্তন আনেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তবে এমবাপ্পে, দেম্বেলে কিংবা ওলিসেদের কেউই স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।
৬২তম মিনিটে লামিনে ইয়ামাল বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষ দিকে ওসমান দেম্বেলে ও এমবাপ্পে কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। বরং ৮৭তম মিনিটে উনাই সিমনের ওপর ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপ্পে।
পুরো ম্যাচে বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় স্পেন। এমবাপ্পেদের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় লা রোজা। ২,০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে স্প্যানিশরা।