কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার সঙ্গে বাড়তে থাকা সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় এআই নিরাপত্তা খাতে আরও অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। গতকাল শনিবার এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত বুধবারের বার্ষিক বাজেট হালনাগাদ ঘোষণার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, ‘এআই থেকে অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি পেতে হলে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সেবা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার হামলা, জৈবিক হুমকি ও এআইয়ের সহায়তায় সৃষ্ট নতুন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে হবে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এআই মডেলগুলো নিরাপত্তাসংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। বাজেটে এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত ১২ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করবে সরকার। ডলারে যার পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ১০ লাখ। এই প্রতিষ্ঠানটি বাজারে ছাড়ার আগে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করে। এ ছাড়া জৈবিক হুমকি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন একটি জাতীয় এআই বায়োসিকিউরিটি ল্যাব প্রতিষ্ঠায় ১০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্যের এআইবিষয়ক মন্ত্রী কানিষ্কা নারায়ণ বলেন, ‘এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, যুক্তরাজ্যেরও তত বেশি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো, সাইবার হামলা থেকে শুরু করে জৈবিক ঝুঁকি পর্যন্ত নতুন নতুন হুমকির মোকাবিলায় এগিয়ে থাকা এবং আমাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির আরও বেশি অংশ নিজেদের দেশে গড়ে তোলা।’ পরিকল্পনার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক সরঞ্জাম তৈরিতেও বিনিয়োগ করা হবে। সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করে এআই মডেল। এর পরিপ্রেক্ষিতে হ্যাকিং থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবে বেশ কিছু ওয়েবসাইট বন্ধও রাখা হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক, হাসপাতাল ও সরকারি ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালানো হতে পারে। গত মাসে জানা যায়, প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআইয়ের একটি অনিয়ন্ত্রিত এআই মডেল নিরাপত্তাব্যবস্থার বাধা অতিক্রম করে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল।