জানা নিউজ

ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-চীন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যেখানে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে রাশিয়া ও চীন সেই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও তুলেছে। আর এই ঘটনা ইরানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে ইরানের পারমাণবিক উদ্দেশ্য নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে রাশিয়া ও চীন ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য গঠিত একটি কমিটি নিয়ে আলোচনাকে ঠেকানোর চেষ্টা করে।

তবে ভোটাভুটিতে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১১-২ ভোটে প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায় এবং দুই দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। নিরাপত্তা পরিষদে চলতি মাসে সভাপতিত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, মস্কো ও বেইজিং তেহরানকে রক্ষা করতে তথাকথিত ১৭৩৭ কমিটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রেরই ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা উচিত। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির স্থানান্তর ও বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ জব্দ করতে হবে।’

ওয়াল্টজ আরও বলেন, পুনরায় আরোপের প্রস্তাব করা জাতিসংঘের বিধানগুলো ইচ্ছাকৃত নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচি এবং সন্ত্রাসবাদে তাদের সমর্থনের কারণে যে হুমকি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলার জন্যই এসব পদক্ষেপ।

তার অভিযোগ, রাশিয়া ও চীন কার্যকর নিষেধাজ্ঞা কমিটির বিরোধিতা করছে, কারণ তারা তাদের অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে চায়। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ সম্প্রতি আবারও উল্লেখ করেছে যে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ, যারা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুত করেছে এবং সেই মজুদের বিষয়ে সংস্থাটিকে পূর্ণ প্রবেশাধিকারও দেয়নি।তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে। তার অভিযোগ, ‘তেহরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক অভিযান চালানো এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার জন্যই এই আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।’

জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু ছংও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই ‘উসকানিদাতা’। তার মতে, আলোচনা চলাকালে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। তিনি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সবসময়ই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ’ছিল। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করা হলে তা তেহরান মেনে নেবে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান কারণ। এই মাসের শুরুতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত। তবে কিছু সূত্র বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে এ দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি।