জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো ও একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালত সূত্র জানায়, এই মামলার রায় ঘোষণার দিন আগেই নির্ধারিত ছিল। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। এর আগে ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও এস এম মিরাজুল আলম আজমান তাদের বক্তব্য দেন।
এই মামলায় মোট ষোল জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই আব্দুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ বাকি আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন এবং আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত বছরের বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। সে সময় উপস্থিত সাত আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এ ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত। প্রমাণ, সাক্ষ্য ও দালিলিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এই মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দেওয়া তৃতীয় রায়। আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।