জানা নিউজ

আর্থিক খাতে আস্থাহীনতা, সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ঝুঁকিমুক্ত হোক

সম্পাদকীয় 

বাংলাদেশের আর্থিক খাত আজ এমন এক সংকটে পড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও বিনিয়োগ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। ব্যাংক থেকে শুরু করে এনবিএফআই, শেয়ারবাজার, বিমা ও সমবায়—প্রতিটি স্তরে আস্থার সংকট বিরাজ করছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট বিতরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে, যা টাকার অঙ্কে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি। দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক দুর্বল অবস্থায় এবং ১২টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এনবিএফআই খাতের ২০টি প্রতিষ্ঠান রেড জোনে, আর ৬টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। শেয়ারবাজারের অবস্থাও ভালো নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কারসাজির সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে বাজার ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বিমা খাতে দাবি পরিশোধ না করার প্রবণতা এ খাতকে কার্যত দেউলিয়া করে তুলেছে। সমবায় খাত দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এ সংকট রাতারাতি তৈরি হয়নি; বছরের পর বছর ধরে চলা সুশাসনের অভাব, অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদাসীনতার ফলেই আজকের এই বিপর্যয়। এখন জরুরি হলো কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বেনামি ঋণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইডিআরএ-কে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে, যেন সাধারণ আমানতকারীর এক টাকাও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শেয়ারবাজারে কারসাজি রোধে শুধু জরিমানা নয়, অপরাধীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ফৌজদারি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। বিমা খাতে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ না করলে লাইসেন্স বাতিল বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।