গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন একটি চুক্তি করার পর, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিন দেশ সফরের প্রথম ধাপে গত সোমবার রাতে আইসল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রেইকিয়াভিকে তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। সংক্ষিপ্ত এই সফরটি রাজনৈতিক ও প্রতীকী-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়। চুক্তির ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া কিংবা এমনকি দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকির অবসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব হুমকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সফরে রওনা হওয়ার আগে রুবিও আইসল্যান্ডকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘তাই সেখানে থেমে তাদের সঙ্গে দেখা করার এটি একটি সুযোগ। এ সফর মূলত এ বছরের শুরুতে ন্যাটো সম্মেলনে দেশটির নেতাদের সঙ্গে এবং পরে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনারই ফল।’ চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে স্বায়ত্তশাসিত ডেনমার্ক-নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলটি আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে চলে আসবে। আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় আইসল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বও আবার বেড়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রাম্প একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মানচিত্র প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন। মানচিত্রটিতে উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডকে ‘যুক্তরাষ্ট্র’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এর জবাবে রেইকিয়াভিক মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ‘ছবিটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’-এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল। আগস্টের শেষ দিকে আইসল্যান্ডের ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। ভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এর বিপক্ষে ও ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট দেন। ২০১৩ সাল থেকে ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত রয়েছে। ২০২১ সালে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পর রুবিওই প্রথম মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি আইসল্যান্ড সফর করছেন। ১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। দেশটির নিরাপত্তা মূলত ন্যাটো এবং ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
আইসল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নেই। তবে রাশিয়া ও চীনের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে ওয়াশিংটন আগ্রহী। রোববারও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের বিষয়টি সামনে আসে। তিনি তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের ভূদৃশ্যের ওপর তার মুখ ভেসে থাকতে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে লেখা ছিল-‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’ আইসল্যান্ডের পর রুবিও গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে যাবেন। সেখানে ন্যাটো সদস্য দেশ গ্রিসের সঙ্গে আঞ্চলিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে একটি ‘কৌশলগত সংলাপে’ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।