জানা নিউজ

আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের বাংলাদেশে রাজনীতি করতে না দেওয়ার শপথ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জুলাই আকাঙ্ক্ষা ধারণ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের কাউকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে না দেওয়ার বিষয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’ শেষে এ শপথ গ্রহণ করেন তারা। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান শপথবাক্য পাঠ করার সময় অন্য নেতারা মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তাতে সমর্থন জানান।

শপথবাক্যে বলা হয়, ‘আমরা আজ এ সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করছি যে—জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা সব দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকব। দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো দমনমূলক ফ্যাসিবাদী ও পরাধীনতামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। ভারতীয় আধিপত্যের তাঁবেদার, জনবিরোধী ও রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী শক্তি, গুম-খুন ও গণহত্যাকারীদের দল, ভারতের মদদপুষ্ট, আওয়ামী লীগ ও  তাদের সহযোগী, তাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারী কালচারাল ফ্যাসিস্ট; কাউকে এ বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেব না। তাদের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করতে আমরা কখনোই কাউকে সহযোগিতা করব না। আইনের শাসন, জনতার ক্ষমতা এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রশ্নে আমরা আপসহীন থাকব। এই মর্মে আমরা আজ শপথ গ্রহণ করলাম। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। আল্লাহ আপনাদের হেফাজত করুন।’

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টি ও তাদের সহযোগী সংগঠন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, লেবার পার্টি, জনতার দল, আপ বাংলাদেশসহ একাধিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং হাদির ওপরে আততায়ী যারা ছিল, তারা যদি ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকে, তাদের হস্তান্তর করুন, প্রত্যর্পণ করুন। না হলে আমি হাদির রক্তের কসম দিয়ে বলছি, বাংলাদেশের প্রতিটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু করব।

তিনি বলেন, আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ২৫ তারিখের মধ্যে যদি এই খুনিদের পাঠিয়ে দেওয়া না হয় বাংলাদেশে, তাহলে বাংলাদেশে কর্মরত প্রতিটি ভারতীয়র ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এক দলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে বট বাহিনীর মিথ্যা পোস্টের মধ্য দিয়ে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সম্পর্কহানি করে বাংলাদেশকে রাষ্ট্র আকারে দুর্বল করে নির্বাচনকে ভন্ডুল করার আয়োজন চলছে। সাংবাদিক আর শিক্ষকরা যারা বিভিন্ন সময় সুশীলতা দেখান, তারা যেভাবে ফেসবুকে বয়ানের রাজনীতি করছেন, দিল্লির আধিপত্যবাদকে সফট পাওয়ার আকারে আমাদের সামনে হাজির করছেন, এটা অশনি সংকেত।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা শুক্রবার থেকে জানি, কে কে এ শুটিংয়ের সঙ্গে জড়িত। আমাদের সংস্থাগুলো ৪০ মিটার নিচ থেকে নাকি বিএনপি-জামায়াত ধরতে পারতো একসময়, তাহলে আজকে সেই মাইক্রোস্কোপগুলো কোথায়? আপনাদের ৪০ মিটার মাপার ফিতা কি নষ্ট হয়ে গেছে?

ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ড. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমেদ আলী কাসেমী, আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র আলী আহসান জুনায়েদ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, জনতার দলের মহাসচিব আজম খান, ওসমান হাদীর পরিবারের পক্ষে শহীদুল ইসলাম, ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনিম জুমা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।