সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী শহিদুল আলম বলেন, পর্যটকরা আমাদের দ্বীপের অতিথি। তাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। অনেক দিন পর দ্বীপে পর্যটকদের পদচারণা শুরু হয়েছে। আমরা চাই, পর্যটকরা নিরাপদে আসবেন, দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম আকাশ বলেন, সেন্টমার্টিনের অনেক মানুষের জীবিকা পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পর্যটকদের অপেক্ষায় ছিলেন। পর্যটন চালু হওয়ায় আমাদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পর্যটকদের আগমনে সেন্টমার্টিনে ফিরেছে উৎসবের আমেজ। এখন পর্যটন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ও ফিরবে স্বাভাবিক গতি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়-এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।