জানা নিউজ

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে কিংমেকার হতে পারেন মধ্যপন্থী নেতা কিউলে ওং

রাজনৈতিক দলের নতুন নেতা খুঁজতে প্রকাশিত একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে সাড়া দিয়েছিলেন কিউলে ওং। এর ১৫ মাস পর এখন তিনি নিউজিল্যান্ডের মধ্যপন্থী দল অপরচুনিটি পার্টিকে পার্লামেন্টে নিয়ে যাওয়ার পথে। এমনকি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী সাবেক কেপিএমজি পরামর্শক গৎ বছরের আগস্টে দলটির দায়িত্ব নেন। তখন জনমত জরিপে দলটির সমর্থন ছিল মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি। তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দলটির সমর্থন বেড়ে প্রায় সাত শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওয়েলিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের বিপরীতে তিনি ‘বাস্তববাদী রাজনীতির’ কথা বলছেন। তার লক্ষ্য, ‘উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে দেশের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেওয়া।’ নিউজিল্যান্ডের ভোটারদের মধ্যে তার এ বক্তব্য সাড়া ফেলছে বলে মনে হচ্ছে। গৎ ৩০ বছরে দেশটিতে প্রধান দুই দল ন্যাশনাল ও লেবার পার্টির সাবেক সদস্যদের বাইরে থেকে গড়ে ওঠা নতুন কোনো দলের উত্থানের ঘটনা খুবই বিরল। নতুন দলগুলোর জন্য দলীয় ভোটের পাঁচ শতাংশ পাওয়া প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। পার্লামেন্টে প্রবেশের দুটি নির্বাচনি পথের একটি হলো দলীয় ভোটে এ ন্যূনতম সমর্থন অর্জন। তাই নির্বাচনের রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হবে, সাম্প্রতিক জরিপে অপরচুনিটি পার্টির ভালো ফল প্রকৃত ভোটেও প্রতিফলিত হয় কি না। বিশ্লেষকদের মতে, এ লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন কমেছে। তাদের জায়গায় বাম ও ডানÑউভয় ধারার আরও কট্টর নীতির প্রচার করা জনতুষ্টিবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে। তবে চীনা ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এবং ফিজিতে জন্ম নেওয়া ওং এএফপিকে বলেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ এ প্রবণতার বিপরীত অবস্থানে রয়েছেন। তার মতে, তারা ‘খুবই সহানুভূতিশীল ও মধ্যপন্থী।’ ওং বলেন, ‘আমড়া শক্তিশালী অর্থনীতি ও সমৃদ্ধ পরিবেশ চাঁই। দেশের বড় সমস্যাগুলো সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার যে আহ্বান আমড়া জানাচ্ছি, তা অনেক নিউজিল্যান্ডবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকদের পরস্পরকে অপমান করা, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা দেখে নিউজিল্যান্ডের মানুষ সত্যিই ক্লান্ত। তারা ভিন্ন কিছু চান। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মনে আশা ও আশাবাদ তৈরি করতে চান।’ আর্ডার্নের সঙ্গে তুলনা-ম্যাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক রিচার্ড শ বলেন, নিউজিল্যান্ডের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অপরচুনিটি পার্টির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য এবং ওংয়ের তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতার পরও দলটির উত্থান ‘অসাধারণ’। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আর্ডার্নের সঙ্গে ওংয়ের তুলনা করেন। আর্ডার্ন তার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। শ বলেন, ‘আমার মনে হয়, তুলনামূলক কম বয়সী এই দুই নারী যেভাবে রাজনীতিতে ভিন্ন ধারার চর্চা করছেন, তা ওংকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের রাজনীতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত, আক্রমণাত্মক ও উচ্চকণ্ঠ হয়ে উঠছে এবং জনজীবনে সক্রিয় নারীরা অনলাইনে ভয়াবহ হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন, তখন এই নারী সামনে এসে বলছেন, ‘আমি একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং আমড়া এভাবেই রাজনীতি করব।’ ‘আমার মনে হয়, মানুষের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য হচ্ছে।’ ৭ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন জনমত জরিপে ওংয়ের অপরচুনিটি পার্টিকে কিংমেকারের অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ আগামী তিন বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বামপন্থী লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট নেবে, নাকি ডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট নেবে, তা নির্ধারণে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।