জানা নিউজ

এমবাপে বিতর্ক নিয়ে যা বললেন মরিনিও

কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে সম্প্রতি একটি মিম বানানো হয়। যেখানে আকারে ইঙ্গিতে চীনের সাবেক নেতা মাও সে তুংকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তার প্রভাব তীব্রভাবে পড়েছে চীনের বাজারে। বেশ কিছু লাভজনক চুক্তি হারিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবার বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তার ক্লাব কোচ হোসে মরিনিও। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের পছন্দের মিম নিয়ে কথা বলার সময় এমবাপে এমন একটি ছবি নিয়ে রসিকতা করেন, যেখানে তার মুখ মাও সে তুংয়ের ছবির ওপর বসানো হয়েছিল। মাওকে সরাসরি নাম ধরে উল্লেখ না করলেও তাকে ‘চীনা একনায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিতর্কের জেরে এমবাপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে চীনের তিন প্রতিষ্ঠান-ডংপেং বেভারেজ, মেংনিউ ও মিল্কগ্রাউন্ড। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এমবাপেকে নিয়ে বিজ্ঞাপন ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার খবরও এসেছে। পরে এমবাপে তার মন্তব্যের কারণে ক্ষমা চান। পরিস্থিতি সামাল দিতে লা লিগা কর্তৃপক্ষ চীনা সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও ক্ষমা চেয়েছেন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে রিয়ালের পরের ম্যাচ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে এনিয়ে কথা বলেন মরিনিও। যেভাবে ক্লাব ও এমবাপে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি। মরিনিও বলেছেন, ‘আজকের পৃথিবীতে এগুলোই বিপদ, যেখানে অনেক সময় সবচেয়ে ভালো কাজ হলো মুখ না খোলা। কারণ আপনার বলা বা মন্তব্য করা অনেক বিষয়েই ঝুঁকি থাকে।’ তিনি বলে গেলেন, ‘কিন্তু আমি তাকে এমন একটি ক্লাবের সঙ্গে বেশ দায়িত্বশীল আচরণ করতে দেখলাম, এক্ষেত্রে যারা বেশ উঁচু শ্রেণির। আমাদের দিক থেকে বলতে গেলে এতটুকুই। আমাদের আর বেশি কিছু বলার নেই। রিয়াল মাদ্রিদ ও কিলিয়ান এমবাপে দুই পক্ষেরই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর যোগ্যতা ছিল। কোচ হিসেবে আমি মনে করি উভয়েই আমাদের ভালো প্রতিনিধিত্ব করেছে।’ চীনের একাধিক ক্ষুব্ধ ব্র্যান্ড রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। তার সঙ্গে চুক্তিতে থাকা চীনের বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ জানিয়েছে, ‘চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা বা আচরণের আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি এবং এ বিষয়ে আমাদের শূন্য-সহনশীলতার নীতি রয়েছে।’ পানীয় উৎপাদনকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান দংপেংও একই সুরে জানিয়েছে, ‘জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন যেকোনো আচরণের আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি এবং এ বিষয়ে আমাদের শূন্য-সহনশীলতার নীতি রয়েছে।’