জানা নিউজ

মাদারীপুরে তাইজুল হত্যার জেরে ৩০ বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে তাইজুল সরদার (২৪) হত্যার জেরে প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিনগর ও টুমচর এলাকায় এঘটনা ঘটে।জানা গেছে, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ওরফে মিলন সরদার এবং তার অনুসারীদের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান সাহীদ পারভেজ ও তার অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

 এর জেরে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কালিনগর বাজারের একটি চায়ের দোকানে হাফিজুর রহমান ও তার দুই অনুসারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় হাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীদের একজন তাইজুল গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে আলীনগর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর নিহত তাইজুলের ভাই পলাশ সরদার বাদী হয়ে কালকিনি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানসহ ২৮ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর পুলিশের অভিযান শুরু হলে হাফিজুর রহমানের অনুসারীরা এলাকা ছাড়তে শুরু করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরপর সোমবার সকালে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুর রহমানের বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। পরে কালিনগর ও টুমচর এলাকায় তার অন্তত ৩০ জন অনুসারীর বাড়িঘরেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে ৩০টির বেশি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কালকিনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আলিম উদ্দিন সরদার বলেন, ‘গোয়ালঘরসহ আমার ৫টা ঘরে ওরা লুটপাট করে সব শ্যাষ করে দিছে। আমরা গরিব মানুষ, আগের চেয়ারম্যানের সমর্থক ছিলাম। কিন্তু কোনো মারামারি-গ্যাঞ্জামের মধ্যে আমরা ছিলাম না। তবুও আমাগো সব ধ্বংস করে দিল।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ১টি ঘর পোড়াইয়া দিছে। ২টি ঘর ভাঙচুর লুটপাট করেছে। আগে ঘরে ঢুকে যা যা পাইছে সব লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা কার কাছে বিচার দিমু। গরিবের কষ্ট দেখার কেউ নাই।’

টুমচর এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বিদেশে থাকে। আমি বাচ্চা নিয়া ঘরে থাকি। হামলাকারীগো দেখে সরে গেছি। ওরা ঘরে ঢুকে যে যা পাইছে নিয়া গেছে। যাদের সঙ্গে মারামারি, গ্যাঞ্জাম, তাদের বাড়িতে গিয়ে এমন করুক। আমরা কি দোষ করছি?’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিনগর ও টুমচর এলাকায় বাড়িঘরে লুটপাট চালানোর আগে হামলাকারীরা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয় লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে ফসলের জমিতে আশ্রয় নেন। ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলা ও ভাঙচুরের শিকার প্রতিটি বাড়ি ঘুরে দেখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাইজুল সরদার হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষ এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

আরও পড়ুন