জানা নিউজ

বিরোধী দল শহীদ পরিবারগুলোর অনুষ্ঠানে না আসায় যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতার জন্য কেবল বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে আবার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দিলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ৭১-এর শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে জীবন দেওয়া শহীদদের সবসময় স্মরণ রাখার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। এখানে ৮১৩ জন শহীদ জুলাইযোদ্ধার নাম সংরক্ষিত আছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উভয়ের লক্ষ্যই ছিল এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্রের স্বাদ নিয়ে বেঁচে থাকা, বাকস্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি আগামী প্রজন্ম যাতে সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশ পায় এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সেটিও ছিল শহীদদের আকাঙ্ক্ষা।’বর্তমান সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিরোধী দল শুধু বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।

আমরা যদি সেই পুরোনো কালচারেই থেকে যাই, তাহলে দেশ সামনে এগোবে কীভাবে? বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে কিন্তু সেটি গঠনমূলক হতে হবে। বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আবার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তবে সেটি দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি হবে।’স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব থাকতে পারে, মঞ্চে না-ই বসলেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগ আর আহত হওয়ার কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, আপনারা যদি সত্যিই জুলাইকে ধারণ করেন তবে এসে শহীদ পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে তো বসতে পারতেন। কিন্তু আপনাদের তো দেখা যাচ্ছে না।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপি আছে’।

তিনি জানান, সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার কাজ পর্যায়ক্রমে করে যাচ্ছে তার সরকার।

সব বিষয়ে একমত না হলেও জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই। সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে আপনাদের বক্তব্য থাকতেই পারে। এসব ফয়সালা করার জন্যই জনগণ আমাদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে বসে আলাপ-আলোচনা ও যুক্তিতর্ক হবে।’

রাস্তা অবরোধ বা বিক্ষোভ করে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। দেশ এগিয়ে যাক, অবস্থার পরিবর্তন ঘটুক, এটিই মানুষের প্রত্যাশা। জনগণ চায় আগামী দিনে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় হোক।’