এখন এই পরিচ্ছন্নতা অব্যাহত রাখতে সড়কের পাশের দোকানদারদের নিজেদের আবর্জনা সঠিকভাবে ফেলতে হবে এবং দোকানের পাশে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান ডিএনসিসির প্রশাসক।
তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন, একটি প্রধান দল সড়ক থেকে উচ্ছেদকৃত কিছু ফুটপাতের দোকানদারকে বাসায় ডেকে ডেকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে।
শুক্রবার (৮ অক্টোবর) মিরপুর-১০ ফলপট্টি সড়কে আয়োজিত মেট্রোরেল পিলারে জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমি এই মেসেজটি পৌঁছে দিতে চাই, যদি কেউ আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, তবে উপস্থিত আমার নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করতে আমি প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলেন, সমালোচনা হবে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এখন একটু বেশিই গণতান্ত্রিক হয়ে গেছে। আমাদের তারেক রহমান কথা দিয়েছিলেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়া হবে। তার মানে এই নয় যে যা ইচ্ছা, তাই করা যাবে।
অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অটোরিকশা আন্দোলনের নামে সেদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-নেতাদের দেখা গেছে। বড় বড় দাড়ি, মাথায় টুপি, পাশে চিহ্ন দেওয়া, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ইতোমধ্যে বের হয়ে গেছে। আমরা আশা করব, আপনারা এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসবেন।
প্রশাসক বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, অটোরিকশাওয়ালাদের দাবি সরকারের মানা উচিত। এটি একটি হাস্যকর বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। আমরা মনে করি, জনগণের কাছে খোলস বদলে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বেচেছিলেন, আমার প্রিয় সরল-সোজা মা-বোনদের ভুল বুঝিয়েছিলেন; এখন আর সেই সুযোগ সামনের দিনে হয়তো আপনারা পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আছি, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় থাকব, সামাজিক কাজে থাকব, সামাজিক আন্দোলনে থাকব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জায়গা পরিষ্কার করার দরকার হলে তাদের নিয়ে করব, মশা মারার দরকার হলে তাদের নিয়ে করব, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে তাদের নিয়ে করব এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করব।
মেট্রোরেলে গ্রাফিতি অঙ্কনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, যারা বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করার জন্য ইতিমধ্যে জীবন আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন, তাদের মানুষের মণিকোঠায় সবসময় স্থান দিতে এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেই গ্রাফিতিগুলো আমরা মেট্রোরেলের পিলারে প্রতিস্থাপন করব। সেই কারণেই আজ আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশের একমাত্র নেত্রী ও একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান এবং সব রাজনৈতিক দল, বিরোধী দলসহ আপামর জনসাধারণের মণিকোঠায় এখনো আছেন, তার প্রতিকৃতি থাকবে। জুলাই অভ্যুত্থান সৃষ্টির পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই প্রিয় নেত্রী, দেশনেত্রী ও গণতন্ত্রের নেত্রীর ছবি মেট্রোরেলের পিলারে থাকবে। স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবি আমরা পিলারে গ্রাফিতির মাধ্যমে অঙ্কন করব।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মিশন হলো গ্রিন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা গড়া। এটি করতে হলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, আর এ জন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। আপনার অসচেতনতার জন্য অন্যে অসুবিধায় পড়বে, আর সেই অসুবিধায় নিপতিত হবে পুরো নগরবাসী।
ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারগুলোতে বিগত সরকারের ব্যর্থতাগুলো ফুটে উঠবে, আর এ থেকে আগামীতে যারা ক্ষমতায় থাকবে, তারা শিক্ষা নেবে।
কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবু বলেন, হকারমুক্ত করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এই হকারকে আবার কেউ বসানোর চেষ্টা করলে দলের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রশাসকের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া, স্থানীয় বিএনপি নেতা আহসান উল্লাহ চৌধুরী ও সাব্বির দেওয়ান।