রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে নতুন প্রজন্মের এম৫১.৩ সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে ফ্রান্স। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পারমাণবিক অস্ত্রবাহী নয় এমন এম৫১.৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্রিটানির উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ফরাসি পারমাণবিক সাবমেরিন লে ভিজিলঁ এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে সক্ষম কি না, তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পরীক্ষাটি চালানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোনো বিস্ফোরক বা যুদ্ধাস্ত্র ছিল না এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনেই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফ্রান্সের বিবৃতিতে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এ পরীক্ষা চালানো হলো। গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে হুমকি না দেওয়ার জন্য তিনি সতর্ক করেন। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত রুশ বিচ্ছিন্ন অঞ্চল কালিনিনগ্রাদকে মস্কো প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে রক্ষা করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে ন্যাটো জানিয়েছে, তাদের কোনো মহড়া বা কার্যক্রমই রুশ ফেডারেশনের ভূখণ্ডের জন্য হুমকি তৈরি করে না। পুতিনও বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই এবং মস্কো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়। ক্ষেপপণাস্ত্র পরীক্ষার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, আজ আমরা আরও শক্তিশালী। যেখানে এই বার্তা পৌঁছানো প্রয়োজন, সেখানে তা স্পষ্ট ও জোরালোভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মার্চে মাখোঁ জানিয়েছিলেন, ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সমপ্রসারণ করবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। এর মধ্যে মিত্রদেশগুলোর ভূখণ্ডে স্বল্পমেয়াদে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন এবং পারমাণবিক প্রতিরক্ষা নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠ পরামর্শের বিষয়টিও ছিল। এর পর থেকে ফ্রান্সের নিরাপত্তা ও মূল্যবোধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের প্রস্তুতির বিষয়টি দেশটির নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্রান্স প্রতি বছর প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষণাবেক্ষণে। দেশটির হাতে সাবমেরিন ও বিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য প্রায় ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। যুক্তরাজ্যের হাতে রয়েছে প্রায় ২২৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। অন্যদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেকের হাতে ৫ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এম৫১ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বশেষ সংস্করণ এম৫১.৩ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। ফ্রান্স এম৫১.৩-এর নির্দিষ্ট দূরপাল্লা প্রকাশ করে না। তবে প্রকাশ্য বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী এম৫১ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের দূরপাল্লা প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার বা তার বেশি। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সংস্করণটি আরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। বিমান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য অস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে ফ্রান্স তার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দেশটির সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতার মূল ভিত্তি চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন। সূত্র : রয়টার্স