জানা নিউজ

অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, ইসি কর্মচারী চাকরিচ্যুত

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

 

এ সংক্রান্ত অফিসে আদেশে বলা হয়েছে, মোছা. ফাতেমা খাতুন নামে ওই কর্মচারী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ শাখার আদেশে বলা হয়েছে, ফাতেমা খাতুন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি নতুন জন্মনিবন্ধন নম্বর ও পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে৫৮৭ ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।আদেশে উল্লেখ করা হয়, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর কুষ্টিয়ার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেন।

এতে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করা হয়। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন।এদিকে তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বসবাসের ঠিকানায়ও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি সপরিবারে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বিনানুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমনের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০১/২০২৬ রুজু করা হয়। গত ৯ এপ্রিল অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হলেও তিনি বা তার পক্ষ থেকে কেউ তা গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের জবাব না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন না করায় বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঝিনাইদহের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তে ইমিগ্রেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

এরপর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিধিতে উল্লেখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট জারি করা ওই নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশটি তার সর্বশেষ বাসস্থানে টাঙিয়ে প্রদর্শন করা হয় এবং স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানাসহ কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। তবে তিনি বা তার পক্ষ থেকে কেউ নোটিশ গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাবও দাখিল করেননি।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি ৩ এর দফা ‘গ’ অনুযায়ী পলায়নের তারিখ ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে এ দণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জারি করা চূড়ান্ত আদেশে মোছা. ফাতেমা খাতুনকে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে চাকরি থেকে অপসারণের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।