তিনি বলেন, ‘এমনকি কলেরা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার সময় রোগী ও তাদের স্বজনদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। পুলিশ মাঝেমধ্যে এসে বাস সরিয়ে দিলেও কিছুক্ষণ পর আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসত। তবে গত কিছুদিন ধরে এলাকায় সেই চিরচেনা যানজট আর চোখে পড়ছে না। পুলিশ প্রশাসনও বেশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।’
সুরাফ হোসেন আরও বলেন, ‘মহাখালী রেলগেট ও বাস টার্মিনাল এলাকা ২৪ ঘণ্টাই অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। এখানে কলেরা হাসপাতালসহ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল এবং অসংখ্য অফিস-আদালত রয়েছে। তাই রাস্তাটি যানজটমুক্ত থাকলে আমাদের সবার জন্যই সুবিধা হয়।’
যানজট কমে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গাজীপুর-গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী বলাকা পরিবহনের যাত্রী মো. মহসিন হোসেন (৩২)। তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে প্রতিদিন জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে বলাকা পরিবহনে মহাখালী এসে নামি। এরপর মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস করি। আগে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলো সড়কের ওপর পার্ক করে রাখায় সকাল-বিকেলে তীব্র যানজট লেগেই থাকত। কাকলী থেকেই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হতো।’

তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে দেখছি, টার্মিনালের বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে মহাখালী এলাকা অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়েছে। এতে আমাদের মতো অফিসগামী মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে আমার একটাই দাবি—নতুন করে যেন কেউ সড়কের ওপর বাস পার্কিং করতে না পারে।’
ডিপোতে বাস স্থানান্তরেই সুফল
গুলশান ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, মহাখালীর যানজট নিরসনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল মহাখালীর গ্যাপের বা ওয়েটিং বাসগুলো পূর্বাচলে রাজউকের একটি নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তর করা।
তিনি বলেন, ‘ডিপোর কাজ এখনো চলমান। এরই মধ্যে সেখানে পরিবহন শ্রমিকদের আবাসন, টয়লেট, খাবারের ব্যবস্থা, যাতায়াত ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজউকের মাধ্যমে শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অস্থায়ীভাবে বড় তাঁবু তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। রাজউকের আবাসন হয়ে গেলে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবেন।’
এডিসি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘টার্মিনাল ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাফিক গুলশান বিভাগের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিপোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
তিনি জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জনবলের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্সও মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শুধু জনবল মোতায়েন নয়, অপেক্ষমাণ বাসগুলো ডিপোতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটিই বেশি কার্যকর হয়েছে।
অব্যাহত থাকবে মনিটরিং
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এডিসি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গ্যাপের বা ওয়েটিং গাড়িগুলো ডিপোতে পাঠানো নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মানুষ স্বস্তি পাবে এবং যানজটও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
তিনি বলেন, নিয়মিত জনবলের পাশাপাশি বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম চলবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা ও ফোর্স মোতায়েন বাড়ানো হবে।
সড়কে মামলা ও রেকারিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মামলা করা বা রেকারিং করা আমাদের মূল ফোকাস নয়; এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। মহাখালী হোক বা অন্য কোথাও, সড়কে অবৈধ পার্কিং থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাখালী বাস টার্মিনাল ও আউটগেট এলাকার বর্তমান শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সড়কে বাস পার্কিং বন্ধ, অপেক্ষমাণ যানবাহন নির্ধারিত ডিপোতে রাখা এবং নিয়মিত ট্রাফিক মনিটরিং অব্যাহত রাখা জরুরি। এসব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চললে দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যা আরও কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীরা।