নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাল ভারতের নারী দল। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে শেফালি ভার্মা সাদা বলের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ৪ উইকেট হারিয়ে তারা করেছে ১৯৫ রান। ১৯৬ রানের আশেপাশে তো দূরে থাক, বাংলাদেশ শেফালির রানও করতে পারেনি। ৮১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ নারী দল। এর আগে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারানোর কারণে গেমসের ফাইনালেও এশিয়া কাপের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। এদিকে সেমিফাইনালে হারলেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের আশা শেষ হয়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার তারা ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। একই দিন শ্রীলঙ্কা ও ভারত স্বর্ণপদকের জন্য লড়বে। গতকাল রোববার গেমসের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৭২ রান তুলে ফেলে। পাওয়ার প্লের শেষ বলে স্মৃতি মান্ধানাকে ৩৭ রানে থামিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন নাহিদা আক্তার। গুনালান কামালিনি (৩) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ৮৫ রানে দ্বিতীয় উইকেটটি পান সানজিদা আক্তার মেঘলা। তারপর চলেছে শেফালি শো। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। দলীয় ১৭৯ রানে হারমানপ্রীত (৪০) রাবেয়া খানের শিকার হন। পরের ওভারে রিচা ঘোষ (২) মারুফা আক্তারের বলে উইকেট হারান। সেঞ্চুরি করতে শেষ ওভারে ২ রান লাগতো শেফালির। স্বর্ণা আক্তারের প্রথম তিন বলে স্ট্রাইক পাননি তিনি। চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৯৯ এ পৌঁছান। শেষের আগের বলে ব্যাটিং প্রান্ত পরিবর্তন করেন ফুলমালি। শেষ বলে নিজের নবম ছক্কা মেরে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শেফালি। বিশাল লক্ষ্যে নেমে চিরাচরিত ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। পাওয়ারে প্লের মধ্যেই তারা ৩৮ রানে তিন উইকেট হারায়। ওপেনার দিলারা আক্তার ছাড়া প্রথম পাঁচ ব্যাটারের চার জনই এক অঙ্কের ঘরে থেমেছেন। দলের ষষ্ঠ ব্যাটার শারমিন আক্তার পরবর্তীতে দুই অঙ্কের ঘরে রান তোলেন। ১০ রান করেন তিনি। দিলারা সর্বোচ্চ ২৭ রানে আউট হন। তার বিদায়ে ৪৯ রানে পাঁচ উইকেটের পতন ঘটে। বাকি পাঁচ উইকেট তারা হারায় ২৬ রানের ব্যবধানে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন সুলতানা খাতুন। ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে। ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন নান্দানি শর্মা ও দীপ্তি শর্মা। দুটি পান শ্রী চরণী।