জানা নিউজ

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস, বেতিসের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের হার

একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে নিশ্চিত হলো হারের হতাশা। গত শুক্রবার লা লিগার ম্যাচে রিয়াল বেতিসের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছে হোসে মরিনহোর দল। বেতিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা আইরিশ স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারট।
চলতি মৌসুমে শুরুটা দারুণ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় রাউন্ডে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে হারানোর পর পরের ম্যাচে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। প্রথম তিন ম্যাচে ১০ গোল করা দলটি বেতিসের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে একটি গোলও করতে পারেনি।
এমবাপ্পার জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে হতাশার। দুই ম্যাচে চার গোল করা ফরাসি ফরোয়ার্ড এদিন অন্তত তিনটি ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে পেনাল্টিও নিতে ব্যর্থ হন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল রিয়াল। ১১তম মিনিটে ডান দিক থেকে আর্দা গিলেরের বাড়ানো ক্রসে ডিন হাউসেন পা ছোঁয়ালেও তার প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস।
তিন মিনিট পর আবার সুযোগ আসে রিয়ালের। এমবাপ্পের দারুণ পাস ডি-বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে দূরের পোস্টে বল বাড়ান আর্দা গিলের। সেখান থেকে ভিনিসিউস জুনিয়রের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪৩তম মিনিটে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপ্পে। মাঝমাঠ থেকে আসা থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভিনিসিউস দ্রুত ডি-বক্সে ঢ়ুকে পড়েন। তাকে আটকাতে এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক। তখন ডান দিকে ফাঁকায় থাকা এমবাপ্পের দিকে বল বাড়ান ভিনিসিউস।
ফাঁকায় বল পেয়ে এমবাপ্পের প্রথম শট বেতিসের এক খেলোয়াড়ের শরীরে লাগে। ফিরতি বল পেয়ে দ্বিতীয়বার নেওয়া শটও আরেক ডিফেন্ডারের গায়ে বাধা পায়।
বিরতির আগে আরও দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। কর্নার থেকে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকিয়ে দেন ভায়েস। এরপর আরেকটি কর্নারে ডিন হাউসেনের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমেনি রিয়ালের। বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি পাচ্ছিল না তারা। ৬৭তম মিনিটে হাউসেনের থ্রু পাস থেকে পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর তার দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন ভায়েস।
ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত বেতিসের আক্রমণও ছিল অনেকটা নিষ্প্রভ। কিন্তু ৮১তম মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে থাকা শটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
কর্নার থেকে নেলসন দেউসার হেড এক হাতে ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটাতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল গোলমুখের সামনে পেয়ে জোরাল শটে জালে পাঠান ট্রয় প্যারট।
৬৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ২৪ বছর বয়সী প্যারটের জন্য এটি ছিল বেতিসের হয়ে তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোল। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বেতিসকে স্মরণীয় জয় এনে দেয়।
গোল খাওয়ার পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। ৮৫তম মিনিটে এমবাপ্পের চিপ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর বদলি হিসেবে নামা কার্লোস এস্পি অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
তাতেও সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন ভিনিসিউস জুনিয়র। পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
দলের হয়ে স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন এমবাপ্পে। কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন আলভারো ভায়েস। ফলে সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয় রিয়ালের।
এই হারে চলতি মৌসুমে প্রথমবার পয়েন্ট হারাল রিয়াল মাদ্রিদ। চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বেতিস। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ৯ পয়েন্টে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।
মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে এটি প্রথম হার। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন জয়ে শুরু করা দলটির জয়ের ধারাও থেমে গেল।
টটেনহ্যামে থাকার সময় থেকেই ট্রয় প্যারটকে চেনেন মরিনহো। ২০১৯-২০ মৌসুমে টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে প্যারটকে প্রিমিয়ার লিগে দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই প্যারটের গোলেই রিয়ালকে হারের স্বাদ নিতে হলো।