জানা নিউজ

শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষ, কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 এ ঘটনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে মো. আব্দুল মালেক (৫০) নামে এক রোগী অ্যাজমাজনিত জটিলতা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এরপর রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
চিকিৎসকদের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে চিকিৎসা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রোগীর মৃত্যু হলে স্বজন ও বহিরাগতরা চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। এতে ইন্টার্ন ও মিড-লেভেলের অন্তত ১৫ জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। সংবাদ সম্মেলনে ডা. রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ তাদের চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ ও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা; প্রতিটি হাসপাতালে ‘আর্মড আনসার’ বা সমমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; হাসপাতালের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি বন্ধ করা এবং সর্বোচ্চ শয্যা সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগী ভর্তি না করা; পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন বা দর্শনার্থীর অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং নিয়মিত ফাইল না দেখায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। চিকিৎসাধীন ঝরনা বেগম ও নিতাই জানান, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তারা প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ জানান, ঘটনায় ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তবে জ্যেষ্ঠ ও মিড-লেভেলের চিকিৎসকদের দিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ রোগীর স্বজন ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছয়জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।