র্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট নিলয়কে অপহরণ করা হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নিলয়কে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।
তিনি জানান, এ ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। অভিযানে একটি কক্ষ থেকে পায়ে শিকল পরানো ও তালাবদ্ধ অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করা হয়। পরে অপহরণের মূলহোতা ফেরদৌস উর রহমান ও মহুয়া আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সীডাঙ্গী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আরও জানান, নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হতো। রাতে নির্যাতনের সময় তার চিৎকারের শব্দ যেন বাইরে না যায়, সেজন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো।
বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দালাল বা অপহরণকারী চক্রের মাধ্যমে বিদেশে না গিয়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের প্রতারণা, অপহরণ বা মানব পাচারের তথ্য পেলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা র্যাবকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।