জানা নিউজ

বিদেশে চাকরির নামে অপহরণ: শিকলবন্দি যুবক উদ্ধার

বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। বিদেশে না পাঠিয়ে অপহরণ করে পরিবারের কাছে আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

ছেলেকে বাঁচাতে পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা নিলয় শিকদারকে (৩৫) অপহরণের নয় দিন পর উদ্ধার করেছে র‍্যাব। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কেরানীগঞ্জে র‍্যাব-১০-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।এ সময় র‍্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে নিলয়কে উদ্ধার করে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল। এ সময় অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন-চক্রের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২), মহুয়া আহমেদ (৩২) ও এস এম মনোয়ার (৩৬)। র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, নিলয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মহেষপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখ টাকা নেন চক্রের সদস্যরা। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।

র‍্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট নিলয়কে অপহরণ করা হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নিলয়কে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।

তিনি জানান, এ ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় র‍্যাব-১০-এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। অভিযানে একটি কক্ষ থেকে পায়ে শিকল পরানো ও তালাবদ্ধ অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করা হয়। পরে অপহরণের মূলহোতা ফেরদৌস উর রহমান ও মহুয়া আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সীডাঙ্গী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক আরও জানান, নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হতো। রাতে নির্যাতনের সময় তার চিৎকারের শব্দ যেন বাইরে না যায়, সেজন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো।

বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দালাল বা অপহরণকারী চক্রের মাধ্যমে বিদেশে না গিয়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এ ধরনের প্রতারণা, অপহরণ বা মানব পাচারের তথ্য পেলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা র‍্যাবকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।