ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় চার বছর আগে দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, অর্থদণ্ডের টাকা আদায়ের জন্য আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের জন্য ঘুরতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে যান। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা।
এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করেন। পরে দুই তরুণী ও তাদের বন্ধুদের মারধর করে রতনের খামার নামের একটি অন্ধকার মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, দুই তরুণীর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে তাদের টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন আসামিরা। এরপর দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার চার দিন পর, ২০২২ সালের ২৯ জুন এক তরুণীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয় যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি ও মামলার যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার ছয় আসামির বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।