২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন লিওনেল মেসি। বল পায়ে অসাধারণ পারফর্ম করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এলএমটেন। কিন্তু শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচের পর ফিফার দেওয়া ব্যক্তিগত পুরস্কারে গোল্ডেন বল জেতেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। মেসি পান সিলভার বল, আর ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে পান ব্রোঞ্জ বল। ফিফার অফিসিয়াল গোল্ডেন বল না পেলেও পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে মেসিকেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)।
গত সোমবার (২০ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইএফএফএইচএস জানায়, বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদান মূল্যায়নে তাদের নিজস্ব তথ্যনির্ভর সূচক ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বিশেষ করে নকআউট পর্বে প্রভাব, সবকিছুই নির্দিষ্ট ওজনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সেই বিশ্লেষণে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন মেসি।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রতিটি পারফরম্যান্সের বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর আমাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট। লিওনেল মেসিই আইএফএফএইচএসের নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়। এই স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন আবেগ বা খ্যাতির কারণে নয়, বরং পরিসংখ্যানের নির্ভুল মূল্যায়নের ভিত্তিতে।’
৩৯ বছর বয়সী মেসি টুর্নামেন্টে ৭টি ম্যাচে মোট ৬২৬ মিনিট খেলে ৮টি গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন আরও ৪টি (সরাসরি ১২টি গোলে অবদান)। টুর্নামেন্টে মেসির প্রতি ম্যাচের গড় রেটিং ছিল ৮.৩৩। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট ও ফাইনাল পর্যন্ত তার এই পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত ধারাবাহিক।
আইএফএফএইচএসের মতে, মেসির এই রেটিং কোনো এক-দুটি অসাধারণ ম্যাচের ফল নয়; বরং গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট এবং ফাইনাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। বিশেষ করে নকআউট পর্বে তার প্রভাবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বকাপে একজন ফুটবলারের প্রকৃত মহত্ত্ব নির্ধারিত হয় নকআউট পর্বে দলের জন্য কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন, তার ওপর। সে বিবেচনায় মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স সূচক টুর্নামেন্টের অন্য সব খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সাল থেকে ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করে আসা আইএফএফএইচএস জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা পারফরম্যান্সকে তথ্য ও পরিমাপের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই তাদের লক্ষ্য, আর সেই মানদণ্ডে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।