জানা নিউজ

নিরাপত্তা কৌশল যেন জনগণকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, তারেক রহমান

ঢাকার সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সূত্র অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত তারেক রহমান বলেন, সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এমন কোনো কৌশল গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে জনগণ নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান। অনুষ্ঠানে তিনি নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে পিজিআরের সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা এবং সদস্যকে অভিনন্দন জানান তিনি। ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।

জনসভা ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি জটিল দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যও বজায় রাখতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

বর্তমান বৈশ্বিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। “সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধের মতো ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ প্রতিটি বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে।”

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে তারেক রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় কর্তব্যরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তায় আনুগত্য ও কর্তব্যপরায়ণতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পিজিআরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয়। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর নাম ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ রাখেন। তার মতে, এই নামকরণ বাহিনীটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ইস্পাতকঠিন দায়িত্ববোধ প্রশংসার দাবিদার।