জানা নিউজ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পরাঘাতের ভয়ে বাইরে রাত কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর অব্যাহত পরাঘাতের (আফটারশক) আতঙ্কে হাজারো মানুষ ঘরের বাইরে রাত কাটাচ্ছেন। রাজধানী কারাকাসসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তাঘাট, খোলা মাঠ ও অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পর থেকে অন্তত ৩০টির বেশি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বহু ভবন ধসে পড়েছে, শত শত মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির কয়েকটি এলাকাকে দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য। সেখানে ব্যাপক ভবনধস ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মেট্রো ও কিছু রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

পরাঘাতের (আফটারশক) আশঙ্কায় অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছে না। রাতভর খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে তারা পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় বুধবার (২৪ জুন) পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটি ছিল ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয়টি ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে রূপ নেয়। এ বিরল ‘ডাবলেট’ ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ে, শত শত মানুষ আহত হন এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ভূমিকম্পের পর থেকে ৩০টিরও বেশি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর পরাঘাত (আফটারশক) স্বাভাবিক হলেও এগুলো আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া ভবনগুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে হাজারো মানুষ নিজেদের বাসা-বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না এবং খোলা মাঠ, সড়ক কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাস ও লা গুয়াইরা অঞ্চল। দেশটির সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া