‘এ’ গ্রুপে তিন ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া টানা তিন জয়ে ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। বাকি একটি টিকিটের লড়াইয়ে আছে বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্বকাপে আসার আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত তিনটি ম্যাচ জেতা। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে তারা ইতোমধ্যে দুটি জয় তুলে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারানোর পর পাকিস্তানকে হারিয়েছে ২৩ রানে। মাঝখানে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯ উইকেটের হার অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে দলকে।
এখন সামনে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দুই কঠিন ম্যাচ। এই দুই পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারলেই সেমিফাইনালের দরজা খুলে যেতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সোবাহানা মোস্তারি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তর প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ, ‘আমরা অনেক ভিডিও দেখি। দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারত ম্যাচের ভিডিও দেখেছি। ভারতের ওপেনাররা কীভাবে ব্যাট করছে, বোলাররা কী করছে—সবকিছু বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভিতরে ঢোকা বল, বাইরে বের হওয়া বল—সবকিছু নিয়েই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং। বোলাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো করলেও ব্যাটিং ইউনিট এখনো নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি। সেটিও স্বীকার করেছেন সোবাহানা, ‘আমরা আমাদের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি। এখানের কন্ডিশন আর আমাদের দেশের কন্ডিশন অনেক ভিন্ন। ফলে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এই কন্ডিশনে ব্যাটিংটা ভালো করতে হবে। বোলাররা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে তারা কী করতে পারে। অনেকটাই ব্যাটারদের ওপর নির্ভর করবে আমরা কত রান করতে পারি।’
দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়েও সন্তুষ্ট সোবাহানা, ‘জ্যোতি আমাদের দলের অধিনায়ক। পাঁচ-ছয় বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সে দলকে খুব ভালো বোঝে। আগের ম্যাচে দারুণভাবে বোলিং পরিবর্তন করেছে। অনেক ভালো একজন অধিনায়ক।’
ভারতের বিপক্ষে লড়াই সবসময়ই আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও উঠে এসেছে সোবাহানার কণ্ঠে, ‘ভারত অনেক ভালো দল, এটা আমরা জানি। কিন্তু আমাদেরও শক্তি আছে। আমরা চেষ্টা করব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমরা যদি আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, যে দল সেদিন ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।’
ভারতও অবশ্য দারুণ ছন্দে আছে। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে ও নেদারল্যান্ডসকে ৯৫ রানে হারিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ফলে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা।