জানা নিউজ

দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। রোববার (১৪ জুন) বিষয়টি জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১২ জুন দুবাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে গ্রেফতারের তথ্য জানায়।

দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্তাধীন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতে অভিযোগ গঠন হয় এবং বিচারিক কার্যক্রমও শুরু হয় বলে জানা যায়।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।”

পুলিশ সদর দপ্তর ও দুদক সূত্র অনুযায়ী, রেড নোটিশ জারির পর ইন্টারপোলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে শনাক্ত করা হয়। এরপর দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায়।

বাংলাদেশ পুলিশের একজন মুখপাত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষ গ্রেফতারের তথ্য পাঠায়। এরপর থেকেই দেশে তাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আরও জানান, দুবাইয়ের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল আইনের অধীনে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও নথি প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হবে।”

দুদক তদন্তে জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের ঘোষিত আয়ের বাইরে প্রায় ১১ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠে আসে।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুম সংক্রান্ত একাধিক মামলাও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে তাকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ ঘটনাকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় পদক্ষেপ। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”

তিনি আরও জানান, দ্রুত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।