চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব সেতুর এপ্রোচ সড়কে ভাগ্নিকে মোটরসাইকেল চালানো শিখাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মামা রাব্বি হোসেন (২৩) ও ভাগ্নি ঈশা মনি (১৪) নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর নেয়ার পথে প্রথমে মারা যায় রাব্বি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় ভাগ্নি ঈশা মনি। রাব্বির বাড়ী মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাইশপুর গ্রামে। বর্তমানে কলাদীতে বসবাস। তার পিতার নাম মিজানুর রহমান। ঈশা মনির বাড়ী মতলব উত্তর উপজেলায়। তার পিতার নাম জুয়েল। দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকাতে বসবাস তাদের। ঢাকায় একটি প্রাইভেট স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঈশা মনি গত সোমবার মতলবে নানার বাড়ী বেড়াতে আসে। মামা রাব্বির বাইক দেখে ড্রাইভিং শিখার আগ্রহ হয় ভাগ্নি ঈশা মনির। পরে তার মামাকে সাথে নিয়েই বিকেলে বাইক চালানো শিখতে গিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাইকসহ রাব্বি ও ঈশা মনি দু’জনেই ছিটকে পড়ে যায়। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাব্বি মারা যায়। এদিকে ঈশা মনির অবস্থা বেগতিক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে পথিমধ্যে সেও মারা যান। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখান থেকে বাইক উদ্ধার করে থানা নিয়ে যায়। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। আহত ইশাত আক্তারের খালাতো ভাই মাহিদুল ইসলাম সেতু জানান, ইশাত তার খালাতো বোন। তার বাবা সচিবালয়ের একজন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে হলেও তারা বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বপন নন্দী হাসপাতালে যান এবং নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।