বরিশালের গৌরনদীতে একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী একই পরিবারের তিনজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাটাজোর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন উজিরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৭), তাঁর স্ত্রী মনিয়া বেগম এবং তাঁদের ছোট মেয়ে জান্নাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মহাসড়কে যানজট থাকায় ফিরোজ মাহমুদ তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তার এক পাশে থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বরিশাল অভিমুখে ছুটে আসা ‘তাজ আনন্দ পরিবহন’ নামের একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আশপাশের উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও সহকারী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দুর্ঘটনার জেরে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, নিহত ফিরোজ মাহমুদ উজিরপুর সদরের আব্দুল হাকিমের ছেলে। প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সপরিবারে ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কের যানজট নিরসন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।