দেশে বর্তমানে কোথাও লোডশেডিং নেই বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে নয়, বরং কোথাও কোথাও যে সাময়িক সমস্যা দেখা যায় তা মূলত লাইনের কারিগরি ত্রুটির কারণে। “লোডশেডিং এখন কোথাও নেই। তবে লাইনে ফল্ট হলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হতে পারে,” বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট নিয়ে যে আলোচনা ছিল, সেটিও নাকচ করেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, “কৃত্রিমভাবে একটি সংকট তৈরি করা হয়েছিল। ডিজেল চুরি ও এসব অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, তেলের অভাবে লোডশেডিং হয়নি, বরং কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে আগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল।
সরকারি তথ্য বলছে, গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। পিক আওয়ারেও চাহিদার পুরোটা পূরণ হওয়ায় কোথাও লোডশেডিং করতে হয়নি।
পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, আগের তুলনায় এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অনেক উন্নত। “ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যা থাকায় আগে ঘাটতি ছিল। এখন সেগুলো কাটিয়ে উঠেছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী শূন্য লোডশেডিং ধরে রাখার চেষ্টা চলছে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কয়লা সরবরাহে। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট ইতোমধ্যে উৎপাদনে এসেছে এবং আরেকটি ইউনিট শিগগিরই যুক্ত হবে, যা উৎপাদন আরও বাড়াবে।
গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লাইনের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় কোথাও ত্রুটি হলে তা শনাক্ত করতে সময় লাগে। এতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে, তবে সেটিকে প্রকৃত লোডশেডিং বলা যাবে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, আগামী পাঁচ বছরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি অফিসগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। তবে গরম বাড়লে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, তখন এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।