জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বললেন, “আমাদের হাতে দুটি অপশন ছিল। জাতীয় সরকার করতে চেয়েছিলাম কিন্তু বিএনপি সেটি মানেনি। আরেকটি অপশন ছিল সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া। সেটা হলে বিএনপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারতো না। সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দেয় বিএনপি। এখন তো সাংবিধানিক সংকট নেই। তাহলে কেন এখন তাকে অপসারণ করা হচ্ছে না। গ্রেফতার করা হচ্ছে না।”
নাহিদ ইসলামে বলেন, “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কথা আমি শুনিনি, এ নিয়ে কিছু বলার আগ্রহ আমার নেই। তবে রাষ্ট্রপতির কিছু কুকীর্তি এ হাউসের সামনে তুলে ধরতে চাই। মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে; বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেয়া, ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের আমলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তি দেয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি এখনও রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখেছে। এটি বিএনপির দেওলিয়াত্ব আমাদের দুর্ভাগ্য এই দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক, অপদার্থ এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “৭২ এর সংবিধানকে অনেকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছেন। কিছু কিছু সদস্য এটি করেছেন। এটা তো আওয়ামী লীগ মেলাতো। এ সংবিধানকে একাত্তরের ফসল মনে করতো। ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতিকে একাত্তরের মূলনীতি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। আমরা সবসময় এর বিরোধিতা করেছি। বিএনপির বহু নেতা এর বিরোধিতা করেছেন।”
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, ৭২ এর সংবিধান রচনা করেছে, সত্তরে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যারা পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে নির্বাচন করেছিলেন। এটা ইনহেরেনটলি আনডেমোক্রেটিক সংবিধান। একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা দেয়ার সংবিধান। শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এ সংবিধান করা হয়েছিল, যাতে করে তার হাতে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ, এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষমতাও কায়দা করে তার হাতে দেয়া হয়। এটা মুজিববাদী আদর্শের সংবিধান। একাত্তরের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের পরিবর্তে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার হাতে সুযোগ ছিল, গণপরিষদ নির্বাচন করে এ দেশের মানুষের মাধ্যমে সংবিধান রচনা করার, তিনি সেটা করেননি।
নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জুলাই সনদকে দলীয় ইশতেহার করা হয়েছে এ কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন,
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা বলেছিলাম, নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনে মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। পাঁচ আগস্টের পর থেকেই আমাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। তখন আমরা একটা মধ্যমপন্থায় আসি। সেখান থেকে ঐক্যমত কমিশনে সংবিধান সংস্কার এসবের আলোচনা হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কথা গণভোটের আলোকে। এখন বিএনপি যদি সে জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরকেও আগের জায়গায় ফেরত যেতে হবে, আমরা নতুন সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর্লিখন চাই।
‘জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর করা হয়েছিল আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সেদিন করিনি। পরবর্তীতে তো আমরা করেছি সেটা বলা যায় না, সেখানে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে এসেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। স্বাক্ষরের দিন একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ সরকারের পাশে নাটক ডিসেন্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই সনদকেও অন্তহীন প্রতারণার দলিল পরিণত করা হয়েছে,’ অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।