দেশের অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বড় বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে আগামী দুই বছরকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে বড় একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির সভা এবং এফবিসিসিআই আয়োজিত পৃথক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান অর্থনীতিকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে অন্তত দুই বছরের বিশেষ পুশ অন প্রয়োজন হবে, এরপর তৃতীয় বছরে গিয়ে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।”
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনাও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যবসা পরিবেশ সহজ করতে সরকার সব ধরনের বাধা দূর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তার ভাষায়, “ব্যবসা পরিচালনায় যত বাধা আছে, তা ধীরে ধীরে অপসারণ করা হবে। প্রাইভেট সেক্টরই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাক শিল্পের মতো অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও একই ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণাকে সামনে রেখে ব্যক্তিখাতের বিকাশেই অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অন্যদিকে একই আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চহারসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে অর্থনীতিতে দ্রুত গতি ফেরানো জরুরি। তার মতে, কর জিডিপি অনুপাত না বাড়লে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বড় অঙ্কের বকেয়া ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে পারে, তাহলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্যই অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।