উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জেলা বগুড়া সোমবার (২০ এপ্রিল) যেন এক উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ঢল নামে। ব্যানার আর ফেস্টুনে সেজে ওঠে সড়কগুলো। কারণ, বগুড়ার মাটিতে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এসেছেন শুধু একটি নয়, বরং একাধিক উন্নয়ন ও বিচারব্যবস্থার যুগান্তকারী সেবার সূচনা করতে।
সকাল সোয়া ১০টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেঁটে যান জেলা জজ আদালত চত্বরে। বেলা সোয়া ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ই-বেইল বন্ড সেবার। এই সেবায় জামিন পেয়ে আদালত থেকে সরাসরি অনলাইনে দ্রুততম সময়ে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছে যাবে। ফলে বিচারপ্রার্থীদের আর দফায় দফায় আদালত ও জেলখানায় ছোটার প্রয়োজন হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘব ও দুর্নীতি রোধে এই ই-বেইল বন্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শুধু বগুড়া নয়, একযোগে সাত জেলায় চালু হয়েছে এই সেবা। বগুড়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় ই-বেইল বন্ড চালু হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ১২টি সিটি করপোরেশন ছিল। সেগুলো হলো ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে বগুড়া পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়। ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১টিতে। তখনই সিটি করপোরেশন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও গত দুই দশকে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সার্ধশত বছরে পূরণ হলো সে স্বপ্ন। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল প্রায় চার লাখ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়া শহরসহ আশপাশের এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ভিড় করছেন তাঁকে একনজর দেখতে।