দেশে হাম ও এর উপসর্গে নতুন করে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ও নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে মৃত্যু ও সংক্রমণের এই চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া চলমান পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৬৮ শিশু। একই সময়ে ১৫০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৩৪ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীদের বড় অংশই ঢাকা বিভাগের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরাঞ্চলে ঘনবসতি, টিকাদান ব্যবস্থায় ঘাটতি এবং দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, “হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, কিন্তু টিকাদান কাভারেজ কমে গেলে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।”
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ২২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৩৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৭ হাজার ৬৫৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ না করলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।