উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯৯ আসনে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট শুরু হয়ে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় ৪৮ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। সারাদেশে ৪৩ হাজারের মধ্যে ৩৬ হাজার কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী এই হিসাব করা হয়েছে। এ হিসাবের ভিত্তিতে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের মত ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
দেশের দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে।
ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কেন্দ্র দখল ও জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এতে কয়েকজন আহত হন। খুলনায় উত্তেজনার মধ্যে এক বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোতায়েনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাব ও সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার সদস্যসহ মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং অভিযোগের জন্য ৩৩৩ হটলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি। বহু বছর পর শঙ্কামুক্ত ভোটদানের প্রত্যাশা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে গেছেন লাখো তরুণ, যুবক ও প্রবীণ।