এই প্রেক্ষাপটে গতবছরের ৭ ডিসেম্বর ব্যাংকার্স সভায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর খেলাপি ঋণ আদায়ে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ব্যাংকগুলোর এমডিদের ঋণ পুনর্গঠন ও আংশিক অবলোপন সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দ ও ক্ষতিজনক শ্রেণির এবং আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ ঋণ আংশিক অবলোপনের অনুমোদন দেয়। মূলত ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিটে খেলাপি ঋণের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জারি করা নীতিসহায়তা সার্কুলারগুলো কঠোরভাবে পরিপালনের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।
গভর্নর কৃষি খাতে ঋণপ্রাপ্তির বৈষম্যের বিষয়ে সম্প্রতি ব্যাংকার্স সভায় বলেন, দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, অথচ মোট ঋণের মাত্র ২ শতাংশ যায় এই খাতে। তিনি কৃষি ঋণ বাড়িয়ে ১০ শতাংশের বেশি করার পরামর্শ দেন।
একই সঙ্গে এসএমই ও সিএমএসএমই খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে ওই সভায় গভর্নর বলেন, সিএমএসএমই ঋণের প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ খাতে উৎসাহ দিতে প্রভিশনিং ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশে নামানোর আশ্বাসও দেন গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিসহায়তা ও পুনর্গঠন উদ্যোগ একদিকে যেমন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ সমস্যার বাস্তব চিত্র সামনে এনে তা কমানোর পথও তৈরি করছে।