জানা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কান্ড!

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ পারজোয়ার ব্রাহ্মণগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে স্কুলে লংকা কান্ড ঘটিয়েছেন। গত ২৪ জুন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির  সভায় তার বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র ধরা পরে।  জানা যায় ২০২৩ সালে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ব্যাক্তিগত সহকারী ম-ই মামুন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়টির  ঐ সময়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সল বিন করিমের মাধ্যমে স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে তাকে  নিয়োগ দেন। নিয়োগ প্রাপ্তির অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আমীনকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে  অপমান অপদস্ত করতে থাকেন। এক পর্যয়ে নুরুল আমীন চাপ সইতে না পেরে ব্রেন ষ্ট্রক করেন।  এর পর নজরুল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পেয়ে নিজের ইচ্ছামত প্রতিষ্ঠানের কর্ম সম্পাদন করতে থাকেন। ইতোমধ্যে প্রধান শিক্ষক কিছুটা সুস্থ হয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর না করে তাকে পদত্যাগ করার জন্য নানামুখী চাপ দিতে থাকেন। ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থীরা মব জাষ্টিস শুরু করে তখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম সেটিকে কাজে লাগান। ২৫ আগষ্ট বহিরাগত লোকজন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করান। তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য প্রতিবাদী আরেক  সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম কে (বিপিএড) ও জোরপূর্বক পদত্যাগ করান। এর পর এ দুজন শিক্ষক সরকারের বিভিন্ন মহলে জোরপূর্বক পদত্যাগের বিষয়টি অবগত করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়। সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সকল প্রতিষ্ঠানের এ জাতীয় কর্মকান্ডের তদন্ত করতে নির্দেশনা দেয়। গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে উক্ত দুজন শিক্ষকের কোন অপরাধ না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের স্ব পদে বহালের আদেশ দেন। স্থাণীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম দায়িত্ব হস্তান্তর না করে আবারো মব জাষ্টিসের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন।

ঘটনা জানতে পেরে উপজেরা নির্বাহী অফিসার রিনাত ফৌজিয়া, ২৪ জুন ম্যানেজিং কমিটির মিটিং করেন। মিটিংএ  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,অভিভাবক সদস্য মোঃ আক্কাছ আলী শিকদার  উপস্থিত থাকেন । মিটিং এ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের অপকর্মের যাবতীয় কর্মকান্ড উঠে আসে। কোন প্রকার নিয়ম না মেনেই নজরুল ইসলাম খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে   মেহেদি হাসান নামে একজনকে  নিয়োগ দেন। জালিয়াতি করে বিদ্যালয় থেকে মাসিক সাত হাজার টাকা করে  বেতন ও দেন। ৪র্থ শ্রেণীর  কর্মচারী আতাউর রহমানকে  কোন কমিটির অনুমোদন ছাড়াই  ছুটি দেন এবং  ৯ মাসের বেতন  ভাতাদি প্রদান করেছেন। ২৭ জুন স্কুলে বহিরাগত লোকজন দিয়ে শ্রেনীকক্ষে প্রবেশ করিয়ে মব জাষ্টিসের চেষ্টা করান। এ ছাড়াও  বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণ,  স্বৈরাচার  আওয়ামীলীগ সরকারের লোকজনকে অতিথি হিসাবে আমন্ত্রন  জানানো , নিজ সিদ্ধান্তে স্কুলে কোচিং পরিচালনা, পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড,ও অন্যান্য বিষয়ে আর্থিক অনিয়ম পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের অনুকুলে  টিআর ,কাবিখার বরাদ্দকৃত ২০ লক্ষাধিক টাকা আওয়ামীলীগের স্থাণীয় নেতাদের যোগসাজসে আত্নসাৎ করেন। শিক্ষার্থী দিয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ দায়ের করার মত জঘন্য কার্যক্রম ঘটানোর চেষ্টা করান। নজরুল ইসলামের বিভিন্ন অপকর্মের বিচারের দাবিতে স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীরা দুর্নীতি,অর্থ আত্নসাৎ,অসদাচরণ,র্শংঙ্খলাভঙ্গ  কোচিং বানিজ্যসহ নানা অভিযোগে তার অপসারণ চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাখিল করেন যার তদন্ত চলমান আছে বলে জানা যায়। এ দিকে বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপের ঘটনায় তাকে অর্থ ফেরতের জন্য বারবার নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি তা কার্যকর না করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা রজ্জু করা হয়। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি  উপজেলা  নির্বাহী অফিসার রিনাত ফৌজিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।