কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজত থেকে নিহত দুর্জয় চৌধুরী (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানান জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিমউদদীন চৌধুরী। পুলিশের দাবি, সরকারি অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর রাতে গায়ের শার্ট খুলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ফাঁস লাগানো অবস্থায় হাজখানার লোহার রডের ওপর হাত রাখা ও দাঁড়িয়ে থাকার ধরন দেখে এ মৃত্যু রহস্যজনক বলে মনে করছে সচেতন মহল। নিহত দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ড ভরামুহুরী হিন্দুপাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুর্জয় চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা চেক জালিয়াতির অভিযোগে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন থানায় একটি মামলা করেছিলেন। সেটি মামলার পরিবর্তে অভিযোগ হিসেবে নিয়ে দূর্জয়কে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। থানা হেফাজতে থাকাকালীন গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে চকরিয়া থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতের কোনো একসময় ঘটা এ ঘটনার পর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সকালে সুরতহাল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দায়িত্বরত কারো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেবের উপস্থিতিতে লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে। ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন দুর্জয়ের স্বজন ও বন্ধুরা।