জানা নিউজ

৮ বছর বয়সে আর্সেনাল থেকে বাদ, ৩৩-এ ব্যালন ডি’অর জয় কেইনের

মাত্র ৮ বছর বয়সে আর্সেনালের একাডেমি থেকে বাদ পড়েছিলেন হ্যারি কেইন। কারণ, তখন তাকে প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতার অধিকারী মনে করেনি ক্লাবটি।

সেই কেইনই ৩৩ বছর বয়সে জিতেছেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। প্রত্যাখ্যান, অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ অপেক্ষা পেরিয়ে বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পাওয়ার গল্পটা তাই ইংলিশ স্ট্রাইকারের জন্য বিশেষ কিছু।
ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে পরিচিত। গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, পরিশ্রম, খেলার দৃষ্টিভঙ্গি এবং রক্ষণে অবদান রাখার মানসিকতাও তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের দীর্ঘ যাত্রার সেরা অর্জনটি পেয়েছেন তিনি।কেইনের ফুটবলজীবনের শুরুটা অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না।

মাত্র ৮ বছর বয়সে তাকে আর্সেনালের একাডেমি থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার শারীরিক গঠন ও স্বাভাবিক অ্যাথলেটিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল কোচ ও স্কাউটদের। ভবিষ্যতে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই, এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল তখন।কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানকে নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি কেইন। ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়ার পথটাও ছিল বেশ কঠিন। টটেনহ্যাম হটস্পারের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার আগে চারটি ক্লাবে ধারে খেলতে হয়েছে তাকে।

প্রথমে লেটন ওরিয়েন্ট, এরপর মিলওয়াল, নরউইচ সিটি এবং সবশেষে লেস্টার সিটিতে ধারে খেলেন কেইন। ভিন্ন ভিন্ন লিগ ও পরিবেশে নিজেকে প্রমাণ করার এই সময়টা ছিল তার জন্য বড় পরীক্ষা। নিচের সারির লিগে লড়াই, সমালোচনা আর নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছে তাকে।

তবে দমে যাননি কেইন। বরং নিজের খেলার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠায় মনোযোগ দেন। মাঠে নিজের অবস্থান নির্বাচন, দুই পায়ে নিখুঁত শট নেওয়া এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা বাড়ান। একই সঙ্গে তৈরি করেন শক্ত মানসিকতা, যা পরবর্তী সময়ে তাকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

টটেনহ্যামে সুযোগ পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কেইনকে। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ড জাতীয় দলেরও সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তবে টটেনহ্যামে ব্যক্তিগত সাফল্য পেলেও বড় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না তার। বছরের পর বছর গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও শিরোপার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ৩০ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। তাকে দলে নিতে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করে বাভারিয়ানরা। তাতে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ে পরিণত হন তিনি।

বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পরও বড় শিরোপার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে কেইনকে। অবশেষে ৩১ বছর বয়সে প্রথম বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যের খাতাতেও যোগ হয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

এরপর ৩৩ বছর বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। ফ্রান্স ফুটবলের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ভোটে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ইংলিশ তারকা।কেইনের কাছে এই পুরস্কার কেবল একটি মৌসুমের গোল কিংবা শিরোপার স্বীকৃতি নয়। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা তাকে বাতিলের খাতায় ফেলেছিলেন, তাদের সংশয়ের জবাবও এই অর্জন। আট বছর বয়সে যে ছেলেকে প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতার অভাবের কারণে একাডেমি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তিনিই আজ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের অধিকারী।