লিগ আঁয়ে জয়ের দেখা না পাওয়ার হতাশা এবার হারে গিয়ে ঠেকল প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের। ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও মোনাকোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে লুইস এনরিকের দল। মার্কিনিয়োসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ফ্লাভিও নাজিনিয়ো ও স্ট্যানিস ইদুম্বোর গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় মোনাকো।
গত শুক্রবার ম্যাচের আগে পিএসজির জন্য ছিল একগুচ্ছ সুখবর। সর্বশেষ দুবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কোচ লুইস এনরিকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসে। একই সঙ্গে জোয়াও নেভেস, লুকাস বেরালদো, সেনি মায়ুলু ও উইলিয়াম পাচোর চুক্তিও ২০৩১ সাল পর্যন্ত এবং ফ্যাবিয়ান রুইজের চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
তবে মাঠের ফল সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি। চলতি লিগে প্রথম দুই ম্যাচে রেন ও লিলের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ২-২ ড্র করেছিল পিএসজি। মোনাকোর বিপক্ষে এবার শুরুতে এগিয়ে গিয়েও আর ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি তারা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজি। ম্যাচের ১২তম মিনিটে জোয়াও নেভেস ও খভিচা কাভারাতসখেলিয়ার পরপর দুটি সুযোগ কাজে লাগেনি। মোনাকোর গোলরক্ষক লুকাস হ্রাদেস্কি দারুণ প্রতিক্রিয়ায় বিপদ সামাল দেন। এর আগে ডেজিরে দুয়েও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন।
পিএসজির আক্রমণের চাপ শেষ পর্যন্ত ফল দেয় ৩১তম মিনিটে। একটি কর্নার থেকে কাভারাতসখেলিয়ার বাড়ানো বলে খুব কাছ থেকে বুক দিয়ে বল জালে পাঠান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস। এতে লিগ ওয়ানে পিএসজির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২৮টি।
বিরতির আগেও পিএসজি বেশ কয়েকবার মোনাকোর গোলমুখে চাপ তৈরি করে। কাভারাতসখেলিয়ার দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন হ্রাদেস্কি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মোনাকো ধীরে ধীরে আক্রমণে উঠতে শুরু করে। ৫৮তম মিনিটে সমতা ফেরায় তারা। পিএসজির রক্ষণ বল পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হলে জর্ডান তেজের ক্রস থেকে ফাঁকায় থাকা ফ্লাভিও নাজিনিয়ো হেডে বল জালে পাঠান।
সমতা ফেরার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় মোনাকোর। ৭২তম মিনিটে আসে তাদের দ্বিতীয় গোল। আলেক্সান্দর গোলভিনের সহায়তায় স্ট্যানিস ইদুম্বো কঠিন কোণ থেকে শট নিয়ে মাতভে সাফোনভকে পরাস্ত করেন। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে পিএসজি। ওসমান দেম্বেলে, ফেরান তোরেসসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মাঠে নামান এনরিকে। কিন্তু মোনাকোর গোলরক্ষক হ্রাদেস্কি শেষ পর্যন্ত পিএসজির সব চেষ্টা আটকে দেন। যোগ করা সময়ে দেম্বেলের একটি শটও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি।
পুরো ম্যাচে পিএসজি আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মোনাকো ছিল অনেক বেশি কার্যকর। ফলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এই হারে লিগ ওয়ানে তিন ম্যাচ শেষে জয়হীন থাকল পিএসজি। রেন ও লিলের বিপক্ষে দুটি ড্রয়ের পর এবার হার। তিন ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১২তম স্থানে নেমে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে মোনাকো নিজেদের তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শীর্ষে রয়েছে তারা। সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে পরের অবস্থানগুলোতে আছে লিঁও ও লিল। (জবঁঃবৎং)
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে জয়হীন পিএসজি। অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতে মৌসুম শুরু করলেও এরপর ফরাসি সুপার কাপে লঁসের কাছে হারে তারা। লিগে প্রথম দুই ম্যাচে ড্রয়ের পর এবার মোনাকোর কাছে হেরে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মোনাকোর কাছে এই হার তাই শুধু তিন পয়েন্ট হারানোর ঘটনা নয়। নতুন মৌসুমে একাধিক নতুন খেলোয়াড় নিয়ে দল পুনর্গঠনের সময় পিএসজির পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন বাড়ল। সুখবরের দিনেই মাঠে পাওয়া এই হার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
Next Post