রাজধানীর দক্ষিণখানে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাহবুব আরা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার আবু তালহা নামে এক আসামি। আসামি সম্পর্কে নিহত বৃদ্ধার দেবরের ছেলের ঘরের নাতি। শনিবার (১ আগস্ট) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল রোববার আদালত সূত্রে এতথ্য জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৩১ জুলাই দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত নারীর ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। মায়ের ফ্ল্যাটে ছেলের বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য। সেই ফুটেজের সূত্র ধরে নিহত নারীর নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, সম্পর্কে নাতি হওয়ায় গ্রেপ্তার আবু তালহা মাঝে মধ্যে মাহবুব আরার বাসায় যাতায়াত করতেন। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ-আল-মামুন। পরে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে মাহবুব আরা বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর তিনি দক্ষিণখানের দক্ষিণ গাওয়াইর এলাকায় নিজের চারতলা বাড়ির দোতলার একটি ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন। বৃদ্ধা মা একা থাকায় তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ছেলে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বাসার বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে শোবার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তিনি সন্তানদের লেখাপড়ার কারণে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বসবাস করেন। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকায় সারাদিন মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি মাহবুব হাসান। গভীর রাতে, প্রায় ৩টার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, ওইদিন বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটের দিকে আবু তালহা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে তিনি শোবার ঘরে গিয়ে প্রথমে বালিশ ও কাপড় দিয়ে মাহবুব আরা বেগমের শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। বৃদ্ধা প্রাণ বাঁচাতে প্রতিরোধ করলে তাকে খাট থেকে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার গলায় ব্যবহৃত ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এতে মাহবুব আরা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর আবু তালহা তার কানের সোনার দুল খুলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যান।