জানা নিউজ

সিটি নির্বাচনে দিনরাত কাজ করতে হবে: জামায়াত আমির

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দিনরাত কাজ করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা থামব না, আমাদের থামার সুযোগ নেই। সামনে সিটি নির্বাচনে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ও দিনরাত এক করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি, আর ভুল হবে না।”

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ তাঁদের ভোট দিলেও তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা তাঁদের কাছে জানতে চান, ভোট দেওয়ার পরও তাঁরা তা রক্ষা করতে পারেননি কেন। এমন প্রশ্নের মুখে নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। মানুষের ভালোবাসার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবেন, তা জনগণই ঠিক করবেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বসে থেকে পরিস্থিতি দেখা হবে না। সংগতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাংগঠনিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনাচরণ নিয়েও আলোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের অতীতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে কাজ করতে হয়েছে। বর্তমান সময়েও নেতা-কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা দিন এনে দিন খান, আল্লাহর পথে তাঁদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চেয়ে জ্ঞান ও সম্পদে দুর্বল মানুষের কথা বিবেচনা করা এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা প্রয়োজন। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে তিনি মৃত্যু, পরকাল এবং নবী ইবরাহিম (আ.) ও নবী ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের বিষয়েও আলোচনা করেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের সাংগঠনিক অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই দুর্বল ছিল। নেতা-কর্মীদের ত্যাগ, কোরবানি ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সংগঠন বর্তমান অবস্থানে এসেছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সব সময় তাঁর সাহায্য কামনার ওপর গুরুত্ব দেন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কোনো পদ-পদবি নয়, এটি একটি মান। একে ক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা ভুল হবে।

তিনি বলেন, রুকনিয়াতের সঙ্গে নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব জড়িত। রুকনদের মান ও আধ্যাত্মিকতা যত শক্তিশালী হবে, সংগঠনও তত শক্তিশালী হবে। আগামী মেয়র নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখে ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। এর মাধ্যমে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সদস্যদের মান, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাও বাড়াতে হবে। আস্থাভাজন নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলন দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নির্বাচনী অধিবেশনে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে ভোট দেন রুকনরা। এতে ১৩ হাজারের বেশি সদস্য ভোট দেন।

নির্বাচন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আ. সবুর ফকির।

সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় সাংগঠনিক অধিবেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন মহানগরীর সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপিসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের একপর্যায়ে ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে তৈরি ‘নাগরিক সেবা’ নামের একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপটিতে নাগরিকদের জন্য ৫০টিরও বেশি সেবামূলক সুবিধা রয়েছে।