ঘর যতই পরিপাটি করে রাখুন না কেন, দেয়ালের কোণায় ধুলো, ময়লা আর মাকড়সার জাল জমে গেলে পুরো ঘরের সৌন্দর্যই যেন ম্লান হয়ে যায়। বিশেষ করে দেয়াল ও ছাদের সংযোগস্থল কিংবা দেয়াল ও মেঝের কোণায় সহজে হাত পৌঁছায় না বলে এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করাও হয়ে ওঠে কঠিন। তবে দেয়ালের রং নষ্ট না করেই কয়েকটি সহজ উপায়ে এসব জমে থাকা ময়লা দূর করা যায়। পরিষ্কার করার শুরুতেই মাকড়সার জাল সরিয়ে নিন। ভেজা কাপড় দিয়ে সরাসরি জাল মুছতে গেলে তা ছড়িয়ে গিয়ে দেয়ালের অন্য অংশেও লেগে যেতে পারে। তাই প্রথমে নরম ডাস্টার, পরিষ্কার পালকের ঝাড়ন কিংবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের নরম ব্রাশ ব্যবহার করে উপর থেকে নিচের দিকে জাল সরিয়ে নিন। এরপর মেঝেতে পড়ে থাকা ধুলো পরিষ্কার করুন।
নরম ডাস্টারেই শুরু করুন
দেয়ালের কোণার আলগা ধুলো পরিষ্কারের জন্য মাইক্রোফাইবার ডাস্টার বা নরম কাপড় বেশ কার্যকর। খুব বেশি চাপ না দিয়ে উপর থেকে নিচের দিকে ধীরে ধীরে মুছুন। উঁচু জায়গার জন্য লম্বা হাতলযুক্ত ডাস্টার বা মপের সঙ্গে মাইক্রোফাইবার কাপড় লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে মই ছাড়াই অনেকটা জায়গা পরিষ্কার করা সম্ভব।
ভ্যাকুয়াম ক্লিনারেও মিলবে সমাধান
কোণায় জমে থাকা ধুলো কিংবা মাকড়সার জাল তুলতে ব্রাশ অ্যাটাচমেন্টযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা যায়। তবে সাকশন খুব বেশি না রাখাই ভালো। রং করা দেয়ালের ওপর ভ্যাকুয়ামের শক্ত নজল সরাসরি চেপে ধরবেন না। এতে দেয়ালে দাগ বা আঁচড় পড়তে পারে। নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করলেই জমে থাকা ময়লা উঠে আসবে।
সামান্য ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড়
শুধু ঝাড়ু দিলেও যদি দেয়ালে ধুলোর আস্তরণ থেকে যায়, তাহলে মাইক্রোফাইবার কাপড় সামান্য পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিংড়ে নিন। কাপড়টি যেন অতিরিক্ত ভেজা না থাকে। এরপর ছোট ছোট অংশে আলতোভাবে দেয়াল মুছে নিন। পরিষ্কার করার পর দেয়াল স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দিন।
হালকা সাবানেও উঠবে দাগ
দেয়ালের কোণায় তেলচিটচিটে বা হালকা ময়লার দাগ থাকলে এক বাটি পানিতে কয়েক ফোঁটা মৃদু তরল ডিশ সোপ মিশিয়ে নিতে পারেন। নরম কাপড় ওই দ্রবণে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিংড়ে নিয়ে দাগের জায়গায় আলতো করে মুছুন। দেয়ালে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করবেন না, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট কিংবা সংযোগস্থলের আশপাশে।
জেদি দাগে বেকিং সোডা
কিছু দাগ সহজে উঠতে না চাইলে সামান্য বেকিং সোডা ও পানি মিশিয়ে পাতলা পেস্ট তৈরি করা যেতে পারে। নরম কাপড় দিয়ে দাগের ওপর খুব হালকা হাতে লাগিয়ে পরিষ্কার করুন। তবে বেকিং সোডা সামান্য ঘর্ষণকারী হওয়ায় ব্যবহারের আগে দেয়ালের আড়াল থাকা ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন। রঙের আস্তরণ বা ফিনিশে পরিবর্তন দেখা দিলে এটি ব্যবহার না করাই ভালো। সব ধরনের পরিষ্কারক ব্যবহারের আগে দেয়ালের একটি কম দৃশ্যমান অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। ব্লিচ, অতিরিক্ত শক্তিশালী ক্লিনার, মোটা স্ক্রাবার কিংবা অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করাই নিরাপদ। দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব, ছত্রাক বা পানির দাগ দেখা দিলে শুধু পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, আগে আর্দ্রতার উৎস খুঁজে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেয়ালের কোণা খুব নোংরা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পরিষ্কার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। এক থেকে দুই সপ্তাহ অন্তর হালকা করে ধুলা ঝাড়লে ময়লার আস্তরণ ও মাকড়সার জাল জমে ওঠার প্রবণতা অনেকটাই কমানো যায়। এতে দেয়াল পরিষ্কার থাকবে, আর পুরো ঘরও দেখাবে আরও সতেজ ও পরিপাটি।