প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন ও ঐতিহাসিক স্থাপনার বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। অনেক দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পর্যটন খাতকে কাজে লাগাচ্ছে। তবে বিদেশী পর্যটক আগমনে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। ভিসা জটিলতা, দুর্বল অবকাঠামো, যাতায়াত সমস্যা, মানি এক্সচেঞ্জ সংকট, প্রচারণা না থাকা এবং সেবার মান ও নিরাপত্তাসহ নানা সীমাবদ্ধতায় আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসু বাংলাদেশিদের বিদেশমুখিতা। একটু সুযোগ পেলেই বিত্তশালীরা চলে যান উন্নত দেশগুলোতে। যাদের হাতে অর্থ কম তারা নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকা ঘুরতে যান। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, পর্যটনের দেশে আসছে না পর্যটক, উলটো বাংলাদেশ থেকেই যাচ্ছে মানুষ। সঙ্গে যাচ্ছে ডলার। বাংলাদেশের পর্যটন খাত থেকে প্রত্যাশিত বৈদেশিক মুদ্রা আয় না হয়ে উলটো দেশ থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন অনেকেই। গত এক দশকে পর্যটন সুবিধা সমপ্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর পরও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করা যায়নি, বরং ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দেশে বিদেশী পর্যটক কমেছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক এসেছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার। একই সময়ে দেশ থেকে বিদেশে ঘুরতে যান ৬ লাখ ৯৪ হাজার মানুষ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৮১ হাজার মানুষ বিদেশে ভ্রমণে যান। জানা গেছে, ২০২৪ সালে দেশে এসেছিলেন ৬ লাখ ৩৩ হাজার পর্যটক। ২০২৩ সালে ৬ লাখ ৫৫ হাজার, ২০২২ সালে ৫ লাখ ২৯ হাজার, ২০২১ সালে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৬ জন এবং ২০২০ সালে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫১৮ জন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসেছিলেন। ২০১৯ সালে বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ৬ লাখ ২১ হাজার ১৩১ জন। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশি পর্যটক আগমনের দিক থেকে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কম নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পর্যটন ব্র্যান্ডিং ও সেবা ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশিদের বিদেশ ভ্রমণের প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে দেশের নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে পর্যটন খাতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও বহির্গমনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। এখন সঠিক পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাওয়ার সময়। তাই বর্তমান সরকারের এই খাতে নজর দিতে হবে।