জানা নিউজ

শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চলছে

দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডেকেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী। বৈঠকে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

 

বুধবার (০৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শ্রমমন্ত্রীর উদ্যোগে এ বৈঠক শুরু হয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠক হচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি চলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
কয়েকশ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। 

এর আগে সকাল ১১টায় পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম বেতন দেওয়া হতে পারে আগামী জানুয়ারিতে। 

গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয় জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।

বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের ভাষ্য, খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মালিকপক্ষ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কথা তুলে ধরছে। চলমান আন্দোলনে কারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।