জানা নিউজ

শিশুর জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে করণীয়

যেকোনো প্রকার শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করলে সেটাকে বলা হয় জন্মগত ত্রুটি। জন্মগত ত্রুটি বাহ্যিক কিংবা অভ্যন্তরীণ হতে পারে। জন্মগত ত্রুটির কারণে শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা শারীরিক-মানসিক বিকাশজনিত অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধিতা হতে পারে।
কারণ
জন্মগত ত্রুটির সঠিক কারণ যদিও জানা নেই।
তবে সাধারণ কারণ হিসেবে নিচের কারণগুলো ধরা হয়ে থাকে।
* বংশগত (মা-বাবা)
* নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে
* মা-বাবার অতি অল্প বয়স কিংবা অধিক বয়স (২০ বছরের কম বা ৩৫ বছরের বেশি)
* পরিবেশদূষণ, তেজষ্ক্রিয়তা
* গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি ইত্যাদির স্বল্পতা
* গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা, পুষ্টিহীনতা/স্থূলতা
* বাবা বা মায়ের তামাক, ধূমপান, মদ ইত্যাদি নেশা করা
* গর্ভাবস্থায় ভুল ওষুধ সেবন
* মায়ের গর্ভের পানির স্বল্পতা
* ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন-ঘুমের ওষুধ, বেদনানাশক, মানসিক রোগের ওষুধ, মৃগী রোগের ওষুধ, বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি, হোমিও ওষুধ ইত্যাদি।
* গর্ভাবস্থায় কোনো জটিল রোগ, যেমন : ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রোগজীবাণু সংক্রমণ।
* গর্ভাবস্থায় দারিদ্র্যতা, মানসিক অশান্তি ইত্যাদি।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
কিছু প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে পারলে জন্মগত ত্রুটি অনেকাংশেই কম হয়।
* গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে থাকা
* পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা
* গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক প্রশান্তি
* গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড, ভিটামিন-বি, ইত্যাদি ভিটামিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা
* তামাক, ধূমপান, মদ ইত্যাদি পরিহার করা
* নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে পরিহার করা
* সঠিক বয়সে সন্তান ধারণ করা (২০-৩৫ বছর)
* বিয়ের আগে/সন্তান ধারণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
* অপ্রতিকারযোগ্য মারাত্মক বিকৃত শিশুকে গর্ভপাত করা
চিকিৎসা
জন্মগত ত্রুটির জন্য সময়মতো চিকিৎসা নিলে প্রায় সবাই সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যায়। এ ধরনের ত্রুটির চিকিৎসা অপারেশন। জন্মগত ত্রুটি দেখলেই শিশু সার্জনের পরামর্শ নিন। বাংলাদেশে সব মেডিকেল কলেজে শিশু সার্জারি বিভাগে এ ধরনের চিকিৎসা বিনা মূল্যে হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে শিশুকে অকাল মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করুন।

এফএনএস